নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুন করতে ২ কোটি টাকা সুপারি দিয়েছে ‘ভাইপো গ্যাং’! মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের মনোনয়ন পর্বে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক এই দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত চন্দ্রনাথের মাকে এদিনই নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তিনি এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেন হলদিয়া মহকুমা শাসকের কাছে। এর আগেও প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথের খুনে ‘ষড়যন্ত্রে’র কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেন, চন্দ্রনাথকে খুন করাতে দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এই টাকা সুপারি কিলারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ‘ভাইপো গ্যাং’! মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। মমতাপন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘খুনের তদন্ত করছে সিবিআই। তার অগ্রগতি কী, কেউ জানতে পারছে না। হঠাৎ করে এতদিন বাদে এই ভাইপো গ্যাং তত্ত্ব এল কোথা থেকে? আসলে এটা নন্দীগ্রাম ভোটের মুখে রাজনৈতিক প্রচার!’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, ‘শুভেন্দুবাবু, চারমাস তো হয়ে গেল! আপনারা পিএ খুনে অভিযুক্ত সেই ব্যক্তিকে ছেড়ে রেখেছেন কেন! দায় কার কেন্দ্রের না রাজ্যের? এখন তো ডবল ইঞ্জিন সরকার!’
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের আবাসনে ফেরার সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন শুভেন্দুবাবুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। চণ্ডীপুর ব্লকের কুলুপ গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ। তাঁর মৃত্যুতে সারা রাজ্যে আলোড়ন তৈরি হয়। এই খুনের নেপথ্যে আন্তঃরাজ্য বিষয় জড়িয়ে থাকায় তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়া হয়। এদিন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চন্দ্রনাথকে খুন করতে শ্যুটার এবং তাদের যারা সুপারি দিয়েছিল, এমন সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার যেটুকু জানা আছে, ওকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এই টাকা ভাইপো গ্যাং দিয়েছে।’ এদিন বেলা ১১টা নাগাদ দিল্লি থেকে নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে শাখারভ সরকারের নাম দলীয় প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে বিজেপি। এরপর এদিন দুপুরে শুভেন্দুর উপস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেন হাসিরানিদেবী। আজ, বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন শাখারভ।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, চন্দ্রনাথকে খুন করতে যারা সুপারি কিলারকে টাকা পৌঁছে দিয়ে এসেছিল, তারা ডায়মন্ডহারবারের বাসিন্দা। তাদের কল রেকর্ড তিনি শুনেছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, ‘এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না। বাকিটা সিবিআই করছে। সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছে। সেইসঙ্গে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। আমার বিশ্বাস, তাদের ফাঁসি হবে।’ সিবিআই সূত্রের খবর, ‘সুপারি’র মানি ট্রেইল দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে হয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে। এ মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে বিষয়টি উল্লেখ করা হবে বলে সিবিআইয়ের ওই সূত্রটি জানিয়েছে।
চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনায় এখনও অবধি যে সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনই ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে গ্রেপ্তার হয়েছে সাগর ও সাহেব সোনকর। তারা কেউ ডায়মন্ডহারবারের বাসিন্দা নয়। তবে তারা চন্দ্রনাথের পূর্বপরিচিত। সিবিআইয়ের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, শ্যুটার আনা থেকে ‘রসদ’ সরবরাহ, রেকি করতে সাহায্য করা, চন্দ্রনাথ খুনের যাবতীয় পরিকল্পনায় এরা ছিল।