নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ৩৫০ মিনিবাস একযোগে ধর্মঘট শুরু করায় শোরগোল পড়েছিল আসানসোল মহকুমা। মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সোমবার থেকে। হাজার হাজার মানুষের সমস্যার জেরে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসতে থাকে আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি সমস্যা সমাধানে ময়দানে নামতেই ঘুম ভাঙে প্রশাসনের। তাঁরাও তৎপর হয়ে দফায় দফায় বৈঠক করায় ধর্মঘট তুলে নেন বাস কর্মচারীরা।
বাসের রুটে অতিরিক্ত টোটো চলাচল। বাসের কর্মচারিদের টোটো চালকদের মারধর করা সহ নানা অভিযোগে শুক্রবার থেকে দোমাহানি রুটে ৩২টি মিনিবাস প্রথম ধর্মঘট শুরু করে। রবিবার থেকে বার্নপুর আসানসোলের রুটের বাস চালকরাও ধর্মঘটে অংশ নেন। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই আসানসোল মহকুমা জুড়ে মিনিবাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের অভিযোগ একই, সরকারি নিয়ম ভেঙে বাসের রুটে টোটো চলাচল করলেও প্রশাসন নির্বিকার। বাস চালকদের ধর্মঘটে হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় থাকলেও সোমবার বিকাল পর্যন্ত এনিয়ে প্রশাসনিক মহলে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তৎপর হন আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বাস মালিক সংগঠনের অফিসে গিয়ে তাঁদের দাবি ও সমস্যা গুলি শোনেন। তারপরই সোমবার রাতে আসানসোল সার্কিট হাউসে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে করেন স্থানীয় বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে বিধায়ক প্রতিনিধিরাই বাস চালকদের সাথে আলোচনা করে সকাল থেকে বাস পরিষেবা স্বাভাবিক করে। এদিন দুপুরে আসানসোল জেলাশাসক অফিসে অতিরিক্ত জেলাশাসক মিঠুন বিশ্বাসের উপস্থিতিতে বাস সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কর্তারাও। তাঁদের দাবি পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তারপরই আন্দোলনে সমাপ্ত করে দেন বাস মালিক পক্ষও।
আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, বাসের রুটে টোটো চলাচল করার জেরেই মূল সমস্যা। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকাও রয়েছে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক ও জেলার মূল রাস্তা যেখানে বাসের যোগাযোগ রয়েছে সেখানে টোটো চলবে না। আমরা ধাপে ধাপে এই নিয়ম কার্যকর করব। বাসের রুটে টোটো চলাচল করবে না। টোটো গুলি যাতে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত যেতে পারে তাঁদের জন্যও নির্দিষ্ট রুট দেওয়া হবে। আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায় বলেন, বাসের রুটে টোটো চলাচল করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা খুশি।
আসানসোল বাসস্ট্যান্ড।-নিজস্ব চিত্র