সংবাদদাতা, হিলি: ইতিহাস মানে শুধু তো রাজ রাজাদের কাহিনি বা যুদ্ধের বিবরণ নয়। একটি অঞ্চলের মাটি, মানুষ, উৎসব, লোকসংস্কৃতি, প্রত্নস্থল, খাদ্যাভ্যাস, স্থাপত্য ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস সেই অঞ্চলের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই প্রেক্ষাপটে এবার উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনকে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদরা এক্ষেত্রে মূলধারার ইতিহাসের পাশাপাশি স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, ব্যক্তি, প্রত্নস্থল ও লোক ঐতিহ্যের মত বিভিন্ন বিখ্যাত বিষয়গুলিকে পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজ স্তরের পাঠ্যক্রমে উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক ইতিহাসের জন্য একটি পৃথক অধ্যায় রাখার প্রস্তাব রেখেছেন তাঁরা।
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার একাধিক উদাহরণ হিসাবে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাণগড়কে প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের অংশ,বোল্লা কালী ও বোল্লার মেলাকে ধর্মীয় ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য, বিনশিরার রথ ও রথতলার রথকে স্থানীয় উৎসব ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের উপাদান হিসাবে তুলে ধরার দাবি তুলছেন তাঁরা। একই ভাবে দাপট কালী মুখোশকে লোকশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদাহরণ হিসাবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবি করেছেন। পাশপাশি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার ঐতিহাসিক স্থান, মেলা, স্থাপত্য, লোকাচার ও পর্যটনকেন্দ্র একইভাবে আঞ্চলিক ইতিহাসের অংশ হতে পারে বলে মত গবেষকদের। বালুরঘাটে ১৯৪২-এর ভারত ছাড় আন্দোলনকে পাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশিষ্ট গবেষক সমিত ঘোষ বলেন, উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক ইতিহাসের অধ্যায়ে প্রত্নতত্ত্ব ও স্বাধীনতা আন্দোলনের পাশাপাশি সামরিক, সাংস্কৃতিক, খাদ্য, পরিবেশ, নদ-নদী, স্থাপত্য ও পর্যটনের ইতিহাস রাখা যেতে পারে।
তিনি দাবি করেন, পাঠ্য পুস্তকে আঞ্চলিক ইতিহাসের একটি আলাদা চ্যাপ্টার অবশ্যই রাখা উচিত। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বালুরঘাটের ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। স্কুলের পাঠ্য বইয়ে পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টারে পৃথকভাবে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পর্যটন হিসাবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানের অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবিতে সরব হয়েছেন বালুরঘাটের অযোধ্যা কালিদাসি বিদ্যানিকেতন শিক্ষক তুহিনশুভ্র মণ্ডল।