সংবাদদাতা, কান্দি: ভরতপুরের তৃণমূল কর্মী খুনে গ্রেপ্তার নিহতের ভাগ্নে। সৌমেন মণ্ডল ওরফে লাদেন নামের ওই যুবককে শনিবার রাতে শুনিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাছের মানুষের সঙ্গে দেখা করতে এসে পুলিসের জালে ধরা পড়ে ওই যুবক। ধৃতের বাড়ি সালার থানার ঘনশ্যামপুর। এনিয়ে খুনের ঘটনায় পুলিস মোট ছ’ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। রবিবার ধৃতকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই বুধবার রাত ন’টা নাগাদ শেহালই গ্রামের তৃণমূল কর্মী ষষ্ঠী ঘোষ (৫৫) মদনপুর গ্রাম থেকে নিজের বাড়ি যাওয়ার পথে শুনিয়া গ্রামের কাছে কুয়ে নদীর বাঁধে খুন হন। দুষ্কৃতীরা তাঁর ঘাড়ে, গলায় ও পিঠে এলোপাথারি ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এদিন মৃতের ভাগ্নে গ্রেপ্তার হওয়ায় সংখ্যাটা দাঁড়াল ছয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের অন্যতম অভিযুক্ত ছিল এই যুবক। তবে পলাতক ছিল সে। ওই যুবক ছাগল কেনাবেচার কাজ করে। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎ সে বাইক নিয়ে শুনিয়া গ্রামে হাজির হয়। এক কাছের মানুষের সঙ্গে দেখা করাই উদ্দেশ্য ছিল তার। দেখা সাক্ষাতের পর কথাও হয়েছিল তার। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেয় পুলিস। সাদা পোশাকের পুলিস পুরো ঘটনার কথা ভরতপুর থানায় জানালে, কয়েকজন পুলিস কর্মী ওই যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক মামার গ্রামে খুব একটা আসত না। এমনকী মামার বাড়ির সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্কও ছিল না। এদিকে শনিবার বিকেলে ভরতপুর থানার পুলিস তৃণমূল কর্মী খুনে দ্বিতীয় অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে। প্রায় তিনফুট দৈঘের্র একটি ঝাঁপা জাতীয় রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয় কুয়ে নদীর একটি কাশ জঙ্গলের মধ্যে থেকে। দুষ্কৃতীরা খুনের পর কুয়ে নদীর পাড় ধরে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে অস্ত্রটি কাশ জঙ্গলে ফিলে দিয়েছিল। নদীতে জল থাকার কারণে তখন পুলিস অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি। জল কিছুটা নেমে যাওয়ায় অস্ত্রটি দেখা যায়। পুলিস জানিয়েছে, প্রৌঢ় খুনে একাধিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একটি অস্ত্র আগেই উদ্ধার হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হল। -নিজস্ব চিত্র