Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সীমান্তের বেতাই ছানাতলাপাড়ার নেপালের নেশা বিষধর সাপ ধরা

পেশা ট্রাকচালক, নেশা বিষধর সাপ ধরে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া। পরিবারের সদস্যরা চান না সাপ ধরার এই নেশা তিনি চালিয়ে যান।

সীমান্তের বেতাই ছানাতলাপাড়ার নেপালের নেশা বিষধর সাপ ধরা
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: পেশা ট্রাকচালক, নেশা বিষধর সাপ ধরে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া। পরিবারের সদস্যরা চান না সাপ ধরার এই নেশা তিনি চালিয়ে যান। কারণ এতে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু খবর পেলেই পরিবারকে লুকিয়ে সাপ ধরতে চলে যান ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেতাই ছানাতলাপাড়ার ৬০ বছরের নেপাল ঘোষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপালবাবু একজন দক্ষ ট্রাকচালক। ড্রাইভার হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট পরিচিত তিনি। কিন্তু তার থেকেও তাঁর বেশি পরিচিত সাপ ধরার জন্য। এলাকায় কারও ঘরে কিংবা লোকালয়ে বিষধর সাপের দেখা মিললে ডাক পড়ে তাঁর। খাতায়কলমে বয়স বাড়লেও বিষধর সাপ ধরার সময়ে তিনি যুবকের মতোই চনমনে। বর্ষাকালে সাপের উৎপাত বাড়লে বিভিন্ন জায়গা থেকে নেপালবাবুর ডাক পড়ে। এদিন ছানাতলা পাড়ার প্রয়াত চন্দ্রনারায়ণ মুখার্জির বাড়ির একটি ঘরে বিষধর সাপ ঢুকেছিল, খবর পেয়ে সেই সাপটিকে ধরে নিরাপদে জঙ্গলে ছেড়ে দেন। এই কাজের জন্য নেপালবাবু এলাকায় সুনাম অর্জন করেছেন।

Advertisement

সাপ ধরা প্রসঙ্গে বলতে না চাইলেও তিনি যেটুকু জানালেন তা হল, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিছক শখেই সাপ ধরেন। সাপ ধরে বিক্রি করলে হয়তো অনেক অর্থ পেতেন, কিন্তু তিনি সাপগুলি ধরে জঙ্গলে ছেড়ে দেন। স্থানীয় চিকিৎসক সাত্তার বিশ্বাস জানান, এই বৃদ্ধ বয়সে খালি হাতে নেপালবাবু কাজটা করছেন তা প্রশংসনীয়। এই কাজে ঝুঁকিও রয়েছে, একটু এদিক ওদিক হলেই প্রাণ সংশয় হতে পারে। তেহট্ট বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, প্রশিক্ষণ ছাড়া নেপালবাবু যে কাজটা করছেন তা প্রশংসনীয়, অনেক সময়ে খবর পেয়ে আমাদের সেখানে পৌঁছতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। একদিন সময় করে নেপালবাবুর সঙ্গে দেখা করে প্রাথমিক ধারণা দিয়ে আসব। এর ফলে সাপ ধরা যেমন সহজ হবে, তেমনি তিনিও নিরাপদ থাকবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ