Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

অনুদান নয়, ক্ষতিপূরণ চাইতে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্ত হচ্ছে নেপাল, ‘দূষণের জন্য দায়ী ভারত-চীন-আমেরিকা’

প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হচ্ছে নেপাল। এটা এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু।

অনুদান নয়, ক্ষতিপূরণ চাইতে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্ত হচ্ছে নেপাল, ‘দূষণের জন্য দায়ী ভারত-চীন-আমেরিকা’
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমাণ্ডু: প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হচ্ছে নেপাল। এটা এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। ক্ষয়ক্ষতিও প্রচুর। নেপাল সরকারের মতে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কালপ্রিট গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ। কিন্তু অন্যদের কৃতকর্মের দায় মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে বহন করতে হচ্ছে তাদের। এই অবস্থায় ভারত, আমেরিকা এবং চীনের মতো সর্বাধিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইল নেপাল। এই নিয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে দৌত্যও শুরু করে দিয়েছে এই প্রতিবেশী দেশ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা কোনো দয়ার দান নয়। গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের উৎস দেশগুলির নেপালকে সহায়তা করা আইনি এবং নৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই পড়ে।’ সূত্রের খবর, ক্ষতিপূরণ নিয়ে সওয়াল করার জন্য রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় (ইউএনজিএ) দরবার করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহকে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছে নেপাল।

Advertisement

‘কান্তিপুর’ টিভিতে এই নিয়ে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী। তারই অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্ট’-এ। সেখানেই নেপালের ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে সওয়াল করেছেন তিনি। শিশিরের মতে, নেপালের গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ ‘নামমাত্র’। তবে অন্যদেশের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে নেপালকে। তাঁর কথায়, ‘যে দোষ আমরা করিনি, তার মূল্য চোকাতে হচ্ছে আমাদের। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবে দ্রুত হিমবাহ গলে যাচ্ছে। তাতেই এই সর্বনাশা পার্বত্য সুনামি ঘটে চলেছে।’ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরে এতদিন ‘অনুদান’ চেয়ে দরবার করত নেপাল। শিশির বলেন, ‘এবার সুবিচার এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে আমরা সরব হব।’  তাঁর কথায়, ‘নেপালের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির প্রতি ভারত, চীন এবং আমেরিকার ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে।’ ইতিমধ্যে নেপাল রাষ্ট্রসংঘের কাছে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়ে দ্রুত আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে। ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে এবং বন ও কৃষিমন্ত্রী গীতা চৌধুরী। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ