Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

নেপালে বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পার, আত্মীয়দের ডিএনএ’র নমুনা তলব প্রশাসনের

হড়পা বান বিপর্যয়ের পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। নেপালে এখনও হদিশ মেলেনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩৭ জনের।

নেপালে বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পার, আত্মীয়দের ডিএনএ’র নমুনা তলব প্রশাসনের
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমাণ্ডু: হড়পা বান বিপর্যয়ের পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। নেপালে এখনও হদিশ মেলেনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩৭ জনের। নিখোঁজদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। এই অবস্থায় নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে ডিএনএ-র নমুনা চেয়ে পাঠানো হল। নেপালের মর্গে রক্ষিত কিংবা কবর দেওয়া দেহের সঙ্গে নমুনার মিল পাওয়া গেলে, তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে খবর। ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের জেরে বুধবার পর্যন্ত ১ হাজার ১২৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১ হাজার ১১৩টি দেহের ময়নাতদন্ত এবং আইনি শনাক্তকরণের কাজ সম্পূর্ণ। ৯৫টি দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ৪ হাজার ৫৪১ জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। 

Advertisement

বিপর্যয়ের জেরে চারটি জেলার পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তারপরও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না নেপালের। দেশের প্রধান তিনটি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালের হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি দপ্তরের অধীন ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশন জানিয়েছে, গোর্খা জেলার সানকোশী, সিন্ধৌলি এবং বুধী গণ্ডকী নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। দেদেলধুরার মহাকালী নদীর জলও বিপদসীমা ছুঁইছুঁই। নদী তীরের মানুষদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। হড়পা বানের জেরে বর্তমানে নেপালের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। তাই নজরদারির জন্য ড্রোনেই ভরসা রাখছে প্রশাসন। জলমগ্ন এলাকা থেকে দেহ এয়ারলিফট করার কাজেও ড্রোনের ব্যবহার শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে নুয়াকোটে দেবীঘাট-৩ থেকে দেবীঘাট-৫ এলাকায় এভাবে সাতটি দেহ তুলে আনা হয়েছে। কাঠমাণ্ডু পোস্টের খবর অনুযায়ী, নুয়াকোটের দেবীঘাট এলাকায় সড়ক বলে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। সেখানে উদ্ধারকারী দলও পৌঁছতে পারেনি। এই অবস্থায় নেপাল পুলিশ, নেপাল আর্মির সমন্বয়ে এআই ব্যবহার করে দেহ তুলে আনা হয়েছে। আটকে পড়া মানুষদের কোনো ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে কাগজে লিখে প্রয়োজনের কথা জানাতে বলা হয়েছে। সঙ্গে দিতে হবে ফোন নাম্বার। তাঁদের সেই আরজি ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়বে। তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ত্রাণ পৌঁছে দেবে সরকার। 
বাগমতি প্রদেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর বুধবারই প্রথম বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। নেপালের সংসদে তিনি বলেন, ‘সংকটের এই মুহূর্তে অশ্রুপাত করার বদলে জনগণকে ভরসা, সাহস ও শক্তি জোগাতে হবে দেশের নেতৃত্বকে। বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করা ছাড়া সরকারের কাছে অন্য কোনো বিকল্প নেই।’ ত্রাণ ও উদ্ধারে সহায়তার জন্য এদিন ভারত ও চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমাদের বন্ধু দেশ চীন ও ভারত প্রযুক্তিবিদ পাঠিয়েছিল। একেবারে প্রথম দিন থেকেই তারা ওই এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে এবং সেখানে পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা নির্ধারণ করতে আকাশপথে পর্যবেক্ষণসহ অন্যান্য সহায়তা করেছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ