সংবাদদাতা, কান্দি: বধূকে স্বামীর ঘর ছেড়ে পালানোর জন্য অনেকদিন ধরেই চাপ দিচ্ছিল পড়শি যুবক। কিন্তু স্বামী-সংসার ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গে পালাতে রাজি হননি বধূ। সেই রাগে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের পুকুরপাড়ে প্রকাশ্যে বধূর গলার নলি কেটে খুনের চেষ্টা করল ওই যুবক। ওই বধূকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত রামপ্রসাদ দাস ও তার পরিবারের সবাই পলাতক। ভরতপুর থানার পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভরতপুর থানার গুন্দোরিয়া পঞ্চায়েতে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, এদিন সকাল ৭টা নাগাদ ওই বধূ পাড়ার একটি পুকুরে বাসন মাজতে গিয়েছিলেন। সেই সময় পুকুরে আরও কয়েকজন মহিলা ছিলেন। রামপ্রসাদও পুকুরের কাছেই দাঁড়িয়েছিল। অভিযোগ, ওই যুবক আচমকাই পুকুরঘাটে নেমে বধূর চুলের মুঠি ধরে তাঁকে মারধর শুরু করে। এরপর বধূকে ফেলে পকেট থেকে একটি ছুরি বের করে তাঁর গলার নলি কেটে দেয়। ওই বধূ নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে ছুরির আঘাতে তাঁর হাতের আঙুলও কেটে যায়।
এরপর পুকুরঘাটে থাকা অপর মহিলা চিৎকার শুরু করলে রামপ্রসাদ সেখান থেকে ছুটে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ওই বধূকে উদ্ধার করে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই বধূর গলায় প্রায় ১৫টি সেলাই পড়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এঘটনায় গ্রামে শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে ভরতপুর থানার পুলিস অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত যুবক সহ তার পরিবারের সবাই পালিয়ে যায়।
এবিষয়ে জখম বধূর স্বামী বলেন, আমি গ্রামের একটি সেলুনে দাড়ি কামাতে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর খড়গ্রামে ভাগ্নের বিয়েতে যাব বলে ঠিক ছিল। সেজন্য স্ত্রীকে তাড়াতাড়ি বাসন মেজে তৈরি হতে বলি। কিন্তু তার আগেই এত বড় কাণ্ড ঘটে গেল।
তিনি আরও বলেন, প্রায় চারবছর ধরে রামপ্রসাদ আমার স্ত্রীকে বিরক্ত করছে। ওদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তা আমি মেনেও নিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও স্ত্রীকে আমার বাড়ি ছেড়ে ওর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। স্ত্রী তাতে রাজি না হওয়ায় এদিন তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।
তিনি জানান, কয়েকমাস আগে রামপ্রসাদ তাঁর স্ত্রীকে একটি মোবাইলও কিনে দিয়েছিল। এরপর তাঁরা পুলিসে অভিযোগ করেন। কারণ রামপ্রসাস আমার স্ত্রীকে বিরক্ত করছিল। থানায় গিয়ে রামপ্রসাদ আর এমন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও বারবার তাঁর স্ত্রীকে মোবাইলে বিরক্ত করা বন্ধ করেনি। উল্টে স্ত্রীকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আক্রান্ত বধূর শাশুড়ি বলেন, বউমার পরকীয়ার কথা জেনেও আমরা চুপচাপ সহ্য করছিলাম। কিন্তু বউমাকে এভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা হবে, তা চিন্তাও করতে পারিনি। আমরা ওই যুবকের চরম শাস্তি চাই।