সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: স্বপ্নে দেখা দেবীর আহ্বানেই প্রায় ১৫ বছর আগে সূচনা হয়েছিল কৃষ্ণনগর রাধানগর অন্নপূর্ণা সরণির দত্তবাড়ির দুর্গাপুজো। নিয়ম নিষ্ঠা সহকারেই দত্তবাড়ির একচালার প্রতিমার পুজো হয়ে আসছে। এই পুজোয় পারিবারিক বন্ধনই বেশি গুরুত্ব পায়। এই পুজোকে ঘিরে পাড়া প্রতিবেশীরাও মেতে উঠেন। পুজোর চারদিন সকাল থেকে ফল কাটা, ফুল বাছাই, ভোগ রান্না-সব কিছুই করেন বাড়ির সদস্যরা। মূলত পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় মহালয়ার দিন থেকেই। পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের প্রবীণ থেকে কনিষ্ঠ, সকলেই কাজ ভাগ করে নেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ব্যবসার খারাপ অবস্থার জন্য বাড়ির সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি বাবু দত্ত বাড়ি ছেড়ে চলে যান। চাকদহে এক ভাড়াবাড়িতে থাকার সময় তিনি স্বপ্নে দেখেন, কৃষ্ণনগরের বাড়িতে তিনি এক চালির দুর্গাপ্রতিমা অন্দরে ঢুকছেন। কিন্তু, স্বপ্ন দেখলেও অর্থনৈতিক কারণে তিনি পুজো করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি আবার নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১১ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, দুর্গাপুজো করবেন। সেবছরই শুরু হয় পুজো।
পঞ্চমীর দিন সকালে নবদ্বীপে গঙ্গাস্নান করে পুজোর কাজকর্ম শুরু হয়। পুজো হয় বেলুড় মঠের রীতিনীতি মেনে। মাকে ভোগে সপ্তমীতে খিচুড়ি, অষ্টমীতে পোলাও এবং নবমীতে ফ্রায়েড রাইস দেওয়া হয়। এছাড়া নবমীতে কুমড়ো, আখ ও শসা বলি হয়। এই পাড়ায় আর দুর্গাপুজো না হওয়ায় পাড়ার লোকজনও এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন। অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে দশমীতে সিঁদুর খেলায় মাতেন সকলে।
বাড়ির প্রবীণ সদস্য বাবু দত্ত বলেন, পুজোয় খরচ করতে আমরা কোনও কার্পণ্য করি না। পুজোর চারদিন একসঙ্গে আনন্দে কেটে যায়। এখন পুজোর সবকিছুই ছেলে, বউমা, নাতি ও নাতনিরা দেখাশোনা করে। ইচ্ছা আছে, মায়ের মন্দির করার। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত বাড়িতে নিরামিষ খাবার রান্না হয়। সেজন্য একাদশীর দিন পাড়ার সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাড়ির আরেক সদস্য রূপম দত্ত বলেন, অষ্টমীতে আমরা বস্ত্র বিতরণ করি। পুজোর চারদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। দশমীতে দুপুরে বাড়ির সকলে মিলে ঢাক সহযোগে মায়ের বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। বাড়ির বধূ মৌসুমী দত্ত বলেন, বাড়ির সদস্য হওয়ার সুবাদে পুজোর সময় সব কাজই করতে হয়। যখন মা আসেন তখন বাড়িটা আলোয় ভরে যায়। প্রতিবেশী অনুপ বিশ্বাস বলেন, মনেই হয় না এটা কোনও বাড়ির পুজো।