ঢাকা: সংবিধান সংশোধনের জন্য বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই আয়োজন করা হয়েছিল গণভোটের। সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে রাজি হলে ‘হ্যাঁ’ আর বিপক্ষে থাকলে ‘না’ ভোট দিতে বলা হয়। শুক্রবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ মানুষ নিজেদের মত জানিয়েছেন। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে ৪ কোটি ৮০ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন। আর ‘না’ ভোট দিয়েছে ২ কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সরাসরি প্রচার চালিয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনুস নিজেও এই নিয়ে প্রচার চালান। বিএনপিও ‘হ্যাঁ ভোট’-এর পক্ষে ছিল। তবে, তারপরেও বিপুল সংখ্যায় মানুষ ‘না’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। এই ভোটাররা কারা, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে।
গণভোটের রায় কার্যকর হলে, বাংলাদেশের সংবিধানে কী কী বদল হবে? প্রথমত, বাংলাদেশের সংসদ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট হবে। একটি দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সেই হিসাবে উচ্চকক্ষে তাদের আসন সংখ্যা নির্ধারিত হবে। কোনো একটি দল চাইলেই আর সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে কেউ দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না। তবে, এই দু’টি প্রস্তাবে বিএনপি রাজি নয়। এছাড়া বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিয়োগ করতে পারবেন। পাশাপাশি সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে। গণভোটে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাশ হলে সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। পরিষদের প্রথম অধিবেশনের ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করা হবে। তবে পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান সংস্কার না করলে কী হবে, তার উল্লেখ করা হয়নি।