নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার ২১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করতে হবে প্রশাসনকে। আসন্ন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের সময়েই হবে এই বিশাল তথ্য যাচাইয়ের কাজ। কারণ, সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যাঁদের নাম ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের মধ্যে বহুজনের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল না।
সম্প্রতি নদীয়া জেলাজুড়ে ভোটার তালিকা ম্যাপিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেই ম্যাপিংয়ের ফলাফলেই উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ এক পরিসংখ্যান। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৪৫ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ ভোটারের নাম পাওয়া গিয়েছে ২০০২ সালের তালিকায়, বাকিদের, অর্থাৎ প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোটারের নামসেই সময়ের তালিকায় ছিল না। ফলে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকেই এখন নথি যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের একাংশের মতে, যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল না, তাঁদের অনেকেই তখন ভোটার হওয়ার যোগ্য ছিলেন না। অর্থাৎ, তাঁদের বয়স তখন ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। আবার কেউ কেউ সেই সময়ে অন্য জেলায় বা রাজ্যে বসবাস করছিলেন, ফলে স্থানীয় তালিকায় নাম ওঠেনি। অন্যদিকে, কিছু মানুষ কোনও ব্যক্তিগত বা প্রক্রিয়াগত কারণে নাম তোলার উদ্যোগ নেননি। এসব কারণেই আজ তাঁরা ‘নতুন ভোটার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, এসআইআর হলে আরও বেশি সংখ্যকযোগ্য ভোটারকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই রয়েছে, তাঁদের নতুন করে আর কোনও নথি জমা দিতে হবে না। এমনকী কারও নিজের নাম না থাকলেও যদি তাঁর বাবা বা মায়ের নাম ওই তালিকায় থাকে, তাহলেও অতিরিক্ত কোনও কাগজপত্র দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সোমবার দ্বিতীয় দফার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই দফায় দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হবে, যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও।
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন। তাই তার আগেই এই এসআইআরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে তিনবার যাবেন সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। প্রশাসন সূত্রে খবর, মোট ১১ ধরনের সরকারি নথিকে এই নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কর্মচারী হিসেবে কাজ করার পরিচয়পত্র অথবা পেনশনভোগীর প্রমাণপত্র, জন্ম শংসাপত্র, পোস্ট অফিস, বা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও সরকারি নথি, পাসপোর্ট, রাজ্য সরকারের অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র, মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বতন শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, জাতিগত শংসাপত্র, জাতীয় নাগরিক রেজিস্টার (যেখানে প্রযোজ্য), স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্টার, ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট এবং জমি বা বাড়ির দলিল।
কমিশন জানিয়েছে, আধার কার্ডের সঙ্গে এই ১১টি নথির যেকোনও একটি জমা দিলেই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।