Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে উধাও প্রায় ১২০০ নাম, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক রামপুরহাটের নারায়ণপুর গ্রামে

মুরারইয়ের রাজগ্রামের পর এবার রামপুরহাট বিধানসভার নারায়ণপুর গ্রাম। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে উধাও প্রায় ১২০০ ভোটারের নাম।

২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে উধাও প্রায় ১২০০ নাম, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক রামপুরহাটের নারায়ণপুর গ্রামে
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : মুরারইয়ের রাজগ্রামের পর এবার রামপুরহাট বিধানসভার নারায়ণপুর গ্রাম। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে উধাও প্রায় ১২০০ ভোটারের নাম। যা নিয়ে আতঙ্কিত ওই এলাকার বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে বিষয়টি মহকুমা শাসকের নজরে আনা হয়েছে। 

Advertisement

এসআইআর নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য। নির্বাচন কমিশনও জানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হচ্ছেই। সেই সূত্রে কমিশনের ওয়েবসাইড থেকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ডাউনলোড করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে বহু এলাকায়। কারণ, বাংলায় এসআইআরের ক্ষেত্রে ‘বিহার মডেল’ ফলো করা হলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এর আগে বিহারে এসআইআর হয়েছিল ২০০৩ সালে। বিহারে এসআইআরের সময়ে বলা হয়েছিল, কারও যদি ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকে, তা হলে তাঁকে আলাদা করে নথি  না দেখালেও চলবে। 
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ২০০২ সালের বিভিন্ন জেলার ভোটার তালিকা আপলোড করা হয়েছে ceowestbengal-এর অফিসিয়াল সাইটে। কিন্তু, সেই তালিকা থেকে রামপুরহাট বিধানসভার নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর পার্টের ভোটার তালিকা উধাও। জানা গিয়েছে, এই পার্টের ১১৬৩ জন ভোটার। তাঁরা এতদিন নারায়ণপুর হাইস্কুলে ভোট দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০০২ সালের তালিকায় এই পার্টের কারও নাম নেই। এই পার্টের ভোটার তথা পঞ্চায়েত সদস্য সুরেশ দাস বলেন, বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এখানে ভোট দিয়ে আসছি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানাব। 
জানা গিয়েছে, ওই বিধানসভার ৯ নম্বর পার্টে রয়েছেন ১৩২৫ ভোটার। তার মধ্যে ৩৫ জনের বেশি নাম নেই। বাসিন্দা জয়দেব সালুই বলেন, বহু বছর থেকে দাদু, বাবা ও আমরা নারায়ণপুর হাইস্কুলে ভোট দিয়ে আসছি। ২০০২ সালেও ভোট দিয়েছি। কিন্তু এখন দেখছি সেই সালের ভোটার তালিকায় আমার পরিবারের ন’জন সদস্যের নাম নেই। খুব চিন্তার মধ্যে পড়েছি। এই পার্টের পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের সুখেন্দু পাল বলেন, বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে উধাও। অথচ, তাঁরা প্রকৃত ভোটার। এসআইআর নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়েছেন ওই এলাকার মানুষজন। এলাকার বিজেপি নেতা তারকেশ্বর ধীবর নিজের ফেসবুক পেজে পোষ্ট করে এই বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, এসআইআরের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা আবশ্যিক বলে জানতে পারছি। কিন্তু কমিশনের ওয়েবসাইডে নারায়ণপুরের বহু ভোটারের নাম নেই। মানুষজন আতঙ্কে রয়েছেন। 
তৃণমূলের নারায়ণপুর অঞ্চল সভাপতি মিলন শেখ বলেন, কমিশন ২০০২ সালের যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে ৭ নম্বর পার্টের তালিকাই উধাও। বিষয়টি নিয়ে মহকুমা শাসককে চিঠি দিয়েছি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মানুষকে শুধু লাইনেই দাঁড় করিয়ে গিয়েছে। মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে। বর্তমানে এসআইআর নিয়ে মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। 
এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআরের আগে মানুষের মধ্যে আতঙ্কভাব দেখা দিয়েছে। ভোটারদেরকে বিভ্রান্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম ও আস্ত পার্ট উধাও হওয়ার দায় নির্বাচন কমিশনের। তাঁদের উচিত, সেই পার্ট জোগান দেওয়া এবং কেন হঠাৎ করে নাম উধাও হয়ে গেল, সেটারও ব্যাখ্যা দেওয়া। 
যদিও মহকুমাশাসক সৌরভ পাণ্ডে আশ্বস্ত করে বলেন, এসআইআর হলে দেখা যাবে। কোনও ভোটার বাদ যাবে না। এটা নির্বাচন কমিশনও চায় না। বিষয়টি দেখা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, একইভাবে কমিশনের ওয়েবসাইডে উধাও মুরারই বিধানসভার রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫ নম্বর পার্টের প্রায় ১৯০০ ভোটারের নাম।  এসআইআর নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়েছেন ওই সমস্ত মানুষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ