নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: জবরদস্তি, বচসা, হুমকি, ভাঙচুরের চেষ্টা, ট্রেন আটকাতে রেললাইনে বসে চলল বিক্ষোভ। গৌড়বঙ্গজুড়ে বন্ধ সমর্থকদের এমনই সব কার্যকলাপের সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ। তবে, সরকারি অফিসে প্রায় পূর্ণ উপস্থিতি ছিল। দক্ষিণ দিনাজপুরে সরকারি অফিসগুলোতে প্রায় ১০০ শতাংশ উপস্থিতির হার ছিল বলে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানিয়েছেন। মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পুরসভাগুলিতে কর্মচারীদের উপস্থিতির হার ছিল ৯৯.৬ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা বলেন, জেলা প্রশাসনের ১০০ শতাংশ কর্মী উপস্থিত ছিলেন। পুরসভা, রোড সেফটি সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে দপ্তরের কনফারেন্স রুমে।
তবে বামেদের অভিযোগ, বেতন কাটা, সার্ভিস রেকর্ডে দাগ করে দেওয়ার মতো হুমকি দিয়ে কর্মচারী ও শিক্ষকদের কর্মস্থলে হাজির থাকতে বাধ্য করেছে সরকার। তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্ম সংস্কৃতিকে মান্যতা দিয়েই কর্মনাশা বন্ধ উপেক্ষা করে শিক্ষক ও সরকারের কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা সাধারণ ধর্মঘট সফল করতে বুধবার সকাল থেকে চলে নানা অপচেষ্টা। তবে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে ভোর থেকে সচেষ্ট ছিল উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পুলিস। জোর করে বন্ধ পালন করানোর দায়ে তিন জেলা মিলিয়ে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এর মধ্যে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর পুলিস জেলা মিলিয়ে ২৬ জন এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। ৩ জন আটক হয়েছে মালদহে।
এদিন সকাল থেকে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে রায়গঞ্জ পুর বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া রেললাইনের মাঝে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিভিন্ন বাম শ্রমিক সংগঠন। বন্ধের সমর্থনে একটি মিছিল হয় রায়গঞ্জ শহরে। সেখান থেকেও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে ভেসে আসে হুমকি। বিক্ষিপ্ত পিকেটিং হয় কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, চোপড়া, ইসলামপুরে। তবে বেলা বাড়তেই যানচলাচল, অফিস, কাছারি স্বাভাবিক হয়। রায়গঞ্জের পুলিস সুপার সানা আখতার বলেন, ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাম সংগঠনগুলির দাবি, সিপিএমের রাজ্য কমিটির নেতা উত্তম পাল সহ তাদের ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
মোটের উপরে বন্ধ শান্তিপূর্ণ মালদহে। কিন্তু বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা তৈরি হয় চাঁচলে। ভারতীয় জীবন বীমা নিগমের দপ্তর বন্ধ করার চেষ্টা ঘিরে বচসা শুরু হয়। বাম সমর্থক এবং তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি’র সদস্যদের মধ্যে বচসা হয়েছে। বন্ধ সমর্থনকারীদের গাড়িতে তোলা হয়। মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানিয়েছেন, বনধকে কেন্দ্র করে অবাঞ্ছিত ঘটনার জেরে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মালদহ শহরে বাম কর্মী সমর্থকরা দোকান ও শপিং মল বন্ধ করে দেয়। পরে রাজ্য আইএনটিটিইউসি’র সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ সান্যালের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা ওই দোকানগুলি খুলে দেন।
মালদহের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বাণীব্রত দাস বলেন, স্কুল ও মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়েছেন।
বালুরঘাটে ধর্মঘট সফল করতে সকাল ছ’টা থেকে সরকারি বাসস্ট্যান্ডের সামনে পিকেটিং শুরু করে বন্ধ সমর্থনকারীরা। পিকেটিং শুরু করতেই পুলিস তাদের সরিয়ে দেয়। জেলাজুড়ে ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে পুলিস সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানিয়েছেন।