


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার রাতের অন্ধকারে প্রথম ‘বিচারাধীন’ তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। আজ, শুক্রবার প্রকাশিত হতে চলেছে দ্বিতীয় তালিকা। কিন্তু প্রথম তালিকায় ঠিক কত জনের নাম বাদ গিয়েছে? কত জনের নামই বা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও দিতে পারেননি জ্ঞানেশ কুমার, মনোজ আগরওয়ালরা। তবে জানা যাচ্ছে, প্রথম পর্বে যে ১৩ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার মধ্যে ৮০ শতাংশই সংখ্যালঘু! সূত্রের খবর, প্রথম পর্বে অন্তত ৯ লক্ষ ৭৫ হাজার মুসলিম ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংখ্যালঘুদের এই ‘ডিলিটেড’ তালিকায় রয়েছেন অন্তত ৫ লক্ষ মহিলা।
সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ৩৩ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তির কাজ শেষ করেছেন যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা বিচারকরা। আর এই ৩৩ লক্ষের মধ্যে মোট বাদ পড়েছেন ১৩ লক্ষের কিছু বেশি বিচারাধীন ভোটার। তার মধ্যে সংখ্যালঘু প্রভাবিত পাঁচ জেলা, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দুই ২৪ পরগনার বেশিরভাগ ভোটার রয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। বিচারাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, সবচেয়ে বেশি ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ জন বিচারাধীন ভোটার ছিলেন মুর্শিদাবাদে। তারপরই মালদহ। এই জেলায় বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ১২৭ জন। এরপরই উত্তর ২৪ পরগনায় প্রায় ৬ লক্ষ। এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটার ‘বিচারাধীন’ ছিলেন। জানা যাচ্ছে, এ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করেছেন বিচারকরা। তার মধ্যে বাদ পড়েছেন অন্তত ২ লক্ষ ভোটার। যার ৯০ শতাংশ সংখ্যালঘু। এই জেলায় বাদের তালিকায় পুরুষের নিরিখে মহিলার সংখ্যাই বেশি। মালদহে এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৪ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এই জেলায় এ পর্যন্ত বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন ১ লক্ষ ৯২ হাজার ভোটার। তারও সিংহভাগ মহিলা। পিছিয়ে নেই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাও। এই দুই জেলা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছ’লক্ষের কিছু বেশি ভোটারের নথি যাচাই হয়ে গিয়েছে। তার প্রায় তিন লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছেন বলে খবর। এই দুই জেলাতেও বাদের নিরিখে এগিয়ে সংখ্যালঘু ভোটাররা। এছাড়াও দুই দিনাজপুর, নদীয়ার একাংশ ও হাওড়ায় বিচারাধীন তালিকা থেকে বহু মুসলিম ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর একটা বিষয় স্পষ্ট ছিল—টার্গেট সংখ্যালঘুরাই! অন্তত তেমনই দাবি করছে তৃণমূল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘এসআইআর শুরুর আগে থেকে বিজেপি নেতারা বলে আসছেন, ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম বাদ যাবে। প্রথমে ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম প্রথমে বাদ। পরের ধাপে ফর্ম ৭-র মাধ্যমে বাদ পড়েছে ৬ লক্ষ। এরপর ৬০ লক্ষ বিচারাধীন। তাহলে সব মিলিয়ে বিজেপির কথা মতো হল সেই ১ কোটি ২৪ লক্ষ। অর্থাৎ টার্গেট ঠিকই ছিল। কমিশন শুধু সেই আদেশ পালন করেছে। সংখ্যালঘু, তফসিলি, মহিলাদের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, তৃণমূলের আপত্তির জেরে অবশেষে ভবানীপুরের সেই রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের কাছে তিনটি বিকল্প নাম চেয়েছে কমিশন।