Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি আধাসেনার

নদীয়া সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি আধাসেনার
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বাংলাদেশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ভারত বিরোধী স্লোগান চলছে। যার জেরে সীমান্তে বিএসএফের কড়া নজরদারি চলছে। দু’ দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, নদীয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। কোনওভাবে যাতে দুষ্কৃতীরা কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে আসতে না পারে তার জন্য ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিচ্ছে বিএসএফ। 
Advertisement
এই মুহূর্তে সীমান্তে মাছি গলার অবস্থা নেই। সারাক্ষণ চলছে জওয়ানদের পাহারা। অচেনা মানুষ দেখলেই দাঁড় করিয়ে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। সাইকেল করেও চলছে টহল। গেদে চেক পোস্টে ব্যাগপত্তর সহ সমস্ত সামগ্রী চেকিং করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী বেশ কিছু জায়গার কাঁটাতারহীন এলাকাগুলোয় আলাদাভাবে নজরদারি চলছে বলে জানা গিয়েছে। কাঁটাতার বিহীন বিজয়পুরও এই তালিকায় রয়েছে।  প্রসঙ্গত, নদীয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে ২২২ কিমি ব্যাপী। এর মধ্যে স্থলেভাগে ১৯৪.৩ কিমি ফেন্সিং রয়েছে ও নদীতে মাত্র ৪ কিমি। নদী এলাকায় ১৩.৫ কিমি ও স্থল এলাকায় ১০.২ কিমি এলাকায় কোনও ফেন্সিং নেই। অথাৎ নদীয়াতে অরক্ষিত এলাকা রয়েছে ২৩.৭ কিমি। অতীতে এই সুযোগে নদীয়া দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বহু জঙ্গি অনুপ্রবেশ হয়েছে। এই জেলার সঙ্গে  জঙ্গি কার্যকলাপের একাধিক ঘটনা রয়েছে। নদীয়ায় জেএমবি জঙ্গিদের কার্যকলাপ ছিল। ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিস্ফোরণে নিহত জেএমবি জঙ্গি শাকিল গাজি করিমপুরের বারবাকপুরের মেয়েকে বিয়ে করে সেখানে ঘাঁটি গেড়েছিল। এই কাণ্ডে অভিযুক্ত পলাতক করিমপুর ২ ব্লকের থানারপাড়া থানার গমাখালির জহিরুল শেখকে এনআইএ পরে ধরেছে। জহিরুলের মতো জেএমবির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কালীগঞ্জ ব্লকের মির্জাপুরের গিয়াসুদ্দিন মুন্সিকেও এনআইএ ধরেছে। জেএমবির কাজে যুক্ত তিনজনই নদীয়ার। নদীয়ায় সালহার মতো শীর্ষ জেএমবি জঙ্গিও ছিল। এদের মাধ্যমে অনেকের মগজধোলাই হয়েছে। সীমান্ত মুরুটিয়া থানার পাইকসা গ্রামে ‘মামা’ বলে পরিচিত কুখ্যাত জঙ্গি সুব্রত বাইন নৌকার ওপর ঘরবাড়ি করে থাকত। এই জঙ্গি কার্যকলাপের শিকড় উৎপাটন পুরোপুরি এখনও হয়নি বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। বাংলাদেশে জঙ্গিদের দাপট, জালনোট, পাচার, অনুপ্রবেশের সমস্যা সীমান্তবাহিনীকে নিয়মিত ভুগিয়ে আসছে। মায়নামার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ হয়ে ভারতবর্ষে ঢোকার চেষ্টা বারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এই বিষয়ে সীমান্তরক্ষীদের সতর্ক থাকতেই হয়। এ নিয়ে বিএসএফের ডিআইজি সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘সীমান্তে নজরদারি যথেষ্ট রয়েছে। আলাদা করে জওয়ান বাড়ানো হয়েছে এরকম নয়। তবে  আমরা সব সময় সতর্ক রয়েছি।’
সম্পর্কিত সংবাদ