নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে মহিলাদের আপত্তিকর ছবি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। সাইবার বিভাগ ও থানায় অভিযোগ জানানোর আগেই সেসব ছবি সমাজমাধ্যমগুলিতে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। জেলার সাইবার বিভাগ এনসিআরপি পোর্টালে অভিযোগ জানানোর প্রচার চালাচ্ছে। আপত্তিকর ছবির ভাইরাল ঠেকানোর একমাত্র পথ ভয় ও সঙ্কোচ কাটিয়ে দ্রুত অভিযোগ জানানো।
ঝাড়গ্রামে ডিএসপি সব্যসাচী ঘোষ বলেন, ঝাড়গ্রামে সমাজমাধ্যমে মহিলাদের আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেবার প্রবণতা বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টলে (এনসিআরপি) অভিযোগ জানানোর জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। সাইবার দপ্তর বা থানায় না এসেও বাড়িতে বসে অভিযোগ জানানো যাচ্ছে। পরিচয় ও ঠিকানা এখানে গোপন রাখা হয়।
একটা স্মার্টফোন হাতে থাকলেই নানা সমাজ মাধ্যম মানুষের হাযের মুঠোয় চলে আসছে। সেই প্রযুক্তির অপব্যবহার চলছে অহরহ। যার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন বিভিন্ন বয়সের মহিলারা। ব্যক্তিগত ছবির সঙ্গেই রাস্তাঘাটে মহিলাদের ছবি অজান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা অনেকসময় বিষয়টি জেনেও মুখ বুজে থাকছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ জানাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজ মাধ্যমগুলোতে দ্রুত সেইসব আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই আপত্তিকর ছবির ভাইরাল দ্রুত রুখে দেওয়া সম্ভব। নাগরিকদের তার জন্য থানায় বা সাইবার দপ্তরে ছুটতে হবে না। সাইবার বিভাগের এনসিআরপি পোর্টালে অভিযোগ জানালেই দ্রুত পদক্ষেপ করবে সাইবার বিভাগ। সমাজমাধ্যমের সাইটে পোস্ট করা ছবি ব্লক হয়ে যাবে। আপত্তিকর ছবির লিংক অন্য সাইটে পাঠানো বা স্ক্রিনশট নেওয়াও সম্ভব হবে না। পাশাপাশি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেবুঝে মহিলাদের অনুমতি ছাড়াই ছবি তুলে সমাজ মাধ্যমগুলিতে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অপরাধের আওতায় তাদের আনা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম জেলা সাইবার বিভাগের এক অফিসার বলেন, মহিলাদের ব্যক্তিগত ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। মহিলাদের পরিচত ব্যক্তিরাই অনেক সময়ে এই কাজ করছেন। আবার বাইরে বেরনো মহিলাদের নানা অবস্থার ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাইবার দপ্তর বা থানায় অভিযোগ জানাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। ভাইরাল হয়ে যাওয়া ছবি ব্লক করা পুলিশের পক্ষে ততক্ষণে কঠিন হয়ে পড়ছে। পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরে মহিলারা চরম অসম্মানের মুখে পড়ছেন। এনসিআরপি পোর্টালে দ্রুত অভিযোগ করা হলে ছবির ভাইরাল হওয়া ঠেকনো অনেকটাই সম্ভব হবে। স্কুল, কলেজ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে এনসিআরপি পোর্টাল নিয়ে সচেতনতা প্রচারে জোর বাড়ানো হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরে ননীবালা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অরুন্ধতী সেন বলেন, অনেকসময় ছাত্রীরা তাদের ছবি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার কথা বলে, কান্নাকাটি করে। অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। থানায় অভিযোগ জানাতে চান না। সাইবারের বিভাগের এনসিআরপি পোর্টাল বিষয়ে আগে জানতাম না। ছাত্রীদের কাছে পোর্টালের বিষয়ে জানানো হবে। পাশাপাশি সামাজিক স্তরেও পোর্টালটির কথা বহু মানুষ যানতে পারেন তার চেষ্টা করা হবে।