নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নিয়ে নিত্যনতুন মোড়। তাদের ২০ জন সাংসদ যখন নিজেদের অবস্থান জানাতে টালবাহানা করছেন, তখন এই দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হল, বিধানসভা উপনির্বাচনে তারা বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনেই প্রচার করবে!
তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জনের সাংসদ পদ খারিজের জন্য ইতিমধ্যেই লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে দাবি পেশ করেছেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সংক্রান্ত একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে দলগত অবস্থান জানাতে আরও সময় চেয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদাররা। তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আরও একমাস সময় চেয়েছেন। তা নিয়ে মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কটাক্ষ—কোন দলে আছি? এই একলাইনের প্রশ্নের উত্তর জানাতে ‘গদ্দার’ সাংসদের মাসের পর মাস সময় লেগে যাচ্ছে। এরপর তো নিজেদের নামই ভুলে যাবেন তাঁরা!
অন্যদিকে, মঙ্গলবার এনসিপিআইয়ের বৈঠক থেকে জাতীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনসিপিআইয়ের বর্তমান সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। আর সহসভাপতি পাঁচজন সাংসদ—আবু তাহের খান, দীপক অধিকারী (দেব), ইউসুফ পাঠান, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক সাংসদ মিতালি বাগ ও বাপি হালদার।
সম্প্রতি জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, পুজোর আগে বা পরে ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেবেন। জগদীশের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই অবস্থায় জগদীশকে এনসিপিআইয়ের সহসভাপতি পদ দেওয়া রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ২৭ জন নামের যে কমিটি এদিন প্রকাশিত হয়েছে, তাতে নাম নেই কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা শতাব্দী রায়ের মতো ওজনদার সাংসদদের। আগামী দিনে রাজ্য কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপিআই নেতৃত্ব।
সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর জোটসঙ্গী। স্বভাবতই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনেই প্রচার করব আমরা। -ফাইল চিত্র