Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

৮ দিনে ১৪ নেতার পদত্যাগ বাংলাদেশে আরও চাপে এনসিপি

জামাতের সঙ্গে জোট করতে গিয়ে কি বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মুছে যাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)?

৮ দিনে ১৪ নেতার পদত্যাগ বাংলাদেশে আরও চাপে এনসিপি
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: জামাতের সঙ্গে জোট করতে গিয়ে কি বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মুছে যাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)? একের পর এক নেতা-নেত্রীর পদত্যাগে এই প্রশ্নই এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। জামাত-এ-ইসলামির সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে গত আটদিনে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন ১৪ জন নেতা-নেত্রী। শনিবার পদত্যাগ করেন সৈয়দা নীলিমা দোলা নামে এক নেত্রী। তারপরেও নেতৃত্বের অন্য অংশ জামাতের সঙ্গে জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে নারাজ। কিন্তু এভাবে যদি বাকি নেতারা পদত্যাগ করতেই থাকেন, তাহলে জোট করে নির্বাচনে এনসিপির আদৌ লাভ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। যে নেতা-নেত্রীরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা অবশ্য শুধু জামাতের সঙ্গে জোট নয়, আরও কিছু বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ওই নেতা-নেত্রীদের অভিযোগ, দলের নেতৃত্বের ‘প্রভাবশালী’ অংশ বাকিদের অন্ধকারে রেখেই সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছেন। জামাতের সঙ্গে জোটের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘বিশেষ’ দুই ব্যক্তির মতামতই প্রাধান্য পেয়েছে।

Advertisement


শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থনে তৈরি হয় ‘বৈষম্যবিরোধী’ পড়ুয়াদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। এক বছরের মধ্যেই এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করে। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। জামাতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে এনসিপির দুই শীর্ষ নেত্রী তাসনিম জারা ও তাজনুভা জাবিন পদত্যাগ করেছিলেন। তারও আগে পদত্যাগ করেছিলেন মীর আরশাদুল হক। জামাতের জোটের বিরোধিতা করে এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা চিঠিও দিয়েছিলেন নাহিদদের। কিন্তু তাতেও নাহিদ ইসলাম সহ জোটপন্থী নেতাদের টনক নড়েনি। এনসিপির সঙ্গে জোটের কথা ঘোষণা করে দেন জামাত প্রধান শফিকুর রহমান। তারপর আরও ১১ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। আরও অনেকে দলীয় কাজকর্ম থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
দল ছাড়ার ঘোষণার পর এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা নেতা মুশফিক উস সালেহিন বলেন, ‘জামাতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত দলের আদর্শের বিপরীত। এনসিপি যে নতুন রাজনৈতিক ধারার কথা বলেছিল, তা এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এনসিপি পুরোনো ধারার রাজনীতিতেই ঢুকে পড়েছে।’ এনসিপির অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে হতাশ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনে মৃতদের পরিবারও। মৃত পড়ুয়া ফারহান ফইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে তাঁরা নতুন কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু পরিচিত মুখের বিদায়ে তাঁরা হতাশ। দল ছাড়ার ঘোষণা করছেন এনসিপি নেতারা।  ছবি: সমাজমাধ্যম । 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ