Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

এনবিইউ’র গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, উত্তরবঙ্গে কীটনাশক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়েছে ডেঙ্গুর বাহক মশা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রক কীটনাশকের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে এডিস ইজিপ্টাই মশা। তিন বছর ধরে উত্তরবঙ্গজুড়ে গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

এনবিইউ’র গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, উত্তরবঙ্গে কীটনাশক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়েছে ডেঙ্গুর বাহক মশা
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রক কীটনাশকের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে এডিস ইজিপ্টাই মশা। তিন বছর ধরে উত্তরবঙ্গজুড়ে গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাঁদের বক্তব্য, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় দু’ধরনের কীটনাশক— ম্যালাথিয়ন ও টেমিফস। এগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকছে ডেঙ্গুর বাহক মশা। কারণ, কার্বক্সিল এস্টারেজ নামে একটি ডিটক্সিফিকেশন এনজাইম মশার দেহে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সর্বত্র মশার বিরুদ্ধে একই কীটনাশক সমানভাবে কার্যকর নয়। 

Advertisement

দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এর মোকাবিলায় বাহক মশার বংশ নিধন অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। তারা বিভিন্ন এলাকায় কীটনাশক ফগিং এবং লার্ভানাশক তেল স্প্রে করছে। এমন প্রেক্ষাপটে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কীটনাশকে কাজ হচ্ছে না। এনিয়েই বিভিন্ন মহল উদ্বিগ্ন। 
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলে গবেষণা। যার নেতৃত্ব দেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ধীরাজ সাহা। তাঁকে সহায়তা করে ছ’জন গবেষক। তাঁরা কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে মশা ধরে গবেষণা করেছেন। গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে, ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণে মশার বংশবিস্তার রোধ এবং বাহক মশা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে ম্যালাথিয়ন ফগিং করা হয়। আর মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় টেমিফস। 
গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ওই দু’ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সেগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে মশার মধ্যে। প্রফেসর ধীরাজ বলেন, প্রতিরোধী মশার শরীরে কার্বক্সিল এস্টারেজ নামে একটি ডিটক্সিফিকেশন এনজাইমের কার্যকারিতা বেড়েছে। এই এনজাইম কীটনাশককে নিষ্ক্রিয় বা ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। এর ফলে কীটনাশকের সংস্পর্শে এসেও কিছু মশা বেঁচে যাওয়ার ক্ষমতা অর্জন করছে। 
একইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকার মশার মধ্যে কীটনাশকের প্রতি সংবেদনশীলতার পার্থক্যও লক্ষ্য করেছেন গবেষকরা। অর্থাৎ, একটি এলাকায় যে কীটনাশক তুলনামূলকভাবে কার্যকর, অন্য এলাকার মশার ক্ষেত্রে সেটি একই রকম কার্যকর নাও হতে পারে। অধ্যাপক ধীরাজের মতে, কোনো এলাকায় কীটনাশক ভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ শুরু করার আগে স্থানীয় এডিস ইজিপ্টাই মশার উপর সংশ্লিষ্ট কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা জরুরি। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কীটনাশক প্রয়োগবিধি চালু করা উচিত। তা হলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতেও সুফল মিলবে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ