নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মবিরতি অব্যাহত সারাবাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির। কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও নিজেদের দাবিতে অনড় সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত কমিটির অধিকাংশ সদস্য আপত্তি তোলায় আদৌ ওই কমিটির বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। তবে বেতন বৃদ্ধি সহ অন্যান্য দাবি না মেটা পর্যন্ত তাঁদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।
সংগঠনটির উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রণজিত্ রায় বৃহস্পতিবার বলেন, আমরা এখনও আশাবাদী এই কমিটি আমাদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখবে। আমাদের বেতন বৃদ্ধি হবে। দাবি না মেটা পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস ছুটিতে থাকায় এখনও এবিষয়ে কোনও আশা দেখছেন না সমিতির সদস্যরা। এনিয়ে রেজিস্ট্রারের ফোন পরিষেবা সীমার বাইরে থাকায় তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি। মেসেজেরও কোনও উত্তর আসেনি। ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য মেলেনি ডিন মহেন্দ্রনাথ রায়ের। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন, তার চেয়ারম্যান মহেন্দ্রনাথবাবু।
এই কমিটির সদস্য অধ্যাপক অর্ধেন্দু মণ্ডল বৃহস্পতিবার বলেন, আমিও অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পক্ষে। কিন্তু আমি জানতে চেয়েছি, এই কমিটি কি বৈধ? রাজ্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছে? এর সদুত্তর এখনও পাইনি।
সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কমিটির (ইসি) অনুমতি নিয়ে উপাচার্য অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য কমিটি গঠন করতে পারেন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এখন উপাচার্যহীন। দীর্ঘদিন কাজকর্ম চলছে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বসিয়ে। ফলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এই কমিটি গঠন করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সরাসরি মুখ না খুললেও কমিটির অধিকাংশ সদস্যও নিমরাজি বৈঠকে বসতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স কাউন্সিলারের সম্পাদক অর্ধেন্দু মণ্ডলের সাফ কথা, আমার প্রশ্নের উত্তর না পেলে আমি বৈঠকে যাব না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রায় সাড়ে চারশো অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক কর্মীর বেতন ২০১৯ সালের আগে রাজ্য সরকারই দিত। কিন্তু তারপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে এই কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সংগঠনটির কর্মবিরতি কতদিন চলে এবং কমিটি বৈঠকে বসে কি না, সেটাই এখন দেখার।
নিজস্ব চিত্র।