সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ডিনের পদত্যাগ চেয়ে সোমবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের দ্বারস্থ হলেন একদল জুনিয়র ডাক্তার। এই দাবিতে প্রিন্সিপালকে তাঁরা স্মারকলিপি দেন। সম্প্রতি, লেকচার থিয়েটার হলে চাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ দেখা নিয়ে এক ইন্টার্নকে শোকজ করেছিলেন ডিন ডাঃ অনুপম নাথ গুপ্তা। প্রতিবাদে ১২মার্চ ডিনকে অনেক রাত পর্যন্ত ঘেরাও করে রাখেন একদল জুনিয়র ডাক্তার ও চিকিৎসক পড়ুয়া।
প্রথম থেকে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, টেলিফোনে প্রিন্সিপালের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তাঁরা খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। অর্থাৎ, লেকচার থিয়েটার হলে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন প্রিন্সিপালই। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, ডিন এজন্য কেন একজন ছাত্রকে শোকজ করবেন? প্রিন্সিপাল এতদিন ছুটিতে ছিলেন। সোমবারই তিনি কলেজে যোগ দিয়েছেন। ডিনের পদত্যাগের দাবিতে এদিন বিকেলে ছাত্ররা তাঁকে স্মারকলিপি দেন। কিন্তু ওই স্মারকলিপিতে লেকচার থিয়েটার হলে প্রিন্সিপালের অনুমতিতেই খেলা দেখার ব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। এনিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। ডিনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার অধিকাংশই খেলা দেখার আগের ঘটনা সংক্রান্ত। ডিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও স্মারকলিপিতে গুরুত্ব পেয়েছে। ডিন এবং অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য প্রিন্সিপালের উপর চাপ তৈরি করেন তাঁরা। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, খেলা নিয়ে বিতর্ককে অজুহাত করে ডিনের পদত্যাগের দাবিই ছিল ঘেরাও আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
সেদিনের আন্দোলনের জেরে অন্য একদল ছাত্রের হাতে তারা নিগৃহীত হয়েছেন। রেহাই পবননি মেয়েরাও। সেই পরিস্থিতিতে ডিন ও ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে ডাঃ অনুপম নাথ গুপ্তার ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না বলেও এদিন প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ করা হয়। সেই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত থেকে ডিন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেননি। হস্টেল মনিটর ও সিআর নির্বাচনেও পক্ষপাতিত্ত্বমূলক আচরণ করেছেন। তাই হস্টেলের মনিটর নির্বাচনও নতুন করে করার দাবিও তোলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।
প্রিন্সিপাল ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা তাঁদের আশ্বস্ত করেন, সবদিক খতিয়ে দেখে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অভিযোগের মীমাংসা করবেন। স্মারকলিপি প্রদান শেষে প্রিন্সিপাল লেকচার থিয়েটার হলে খেলা দেখার জন্যও টেলিফোনে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, এদিন একদল ছাত্র আমার কাছে কিছু অভিযোগ জানিয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের বক্তব্যও শোনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হবে। এটি কলেজের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
এদিকে গত ১২মার্চ রাতে পুলিসের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরার পর ডিনকে আর কলেজে দেখা যায়নি। এই প্রসঙ্গে প্রিন্সিপাল বলেন, ডিন ছুটিতে রয়েছেন। তবে তাঁর ছুটিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নিজস্ব চিত্র।