Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকাকে ধর্ষণ প্রতিবেশী কিশোরের

নাবালিকাকে ধর্ষণ প্রতিবেশী কিশোরের
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, চাঁচল: বাড়িতে ঢুকে ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে  মালদহের চাঁচল-২ ব্লকের একটি গ্রামে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, নাবালিকা একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরত। তার বাবা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছেন। মা ও মেয়ে বাড়িতে থাকেন। এই সুযোগে রাতে বাড়িতে ঢুকে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী কিশোর চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। ওই কিশোরী তার মাকে ঘটনার কথা জানালে তিনি আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ হয় অভিযুক্তের পরিবার। থানায় যাতে অভিযোগ না করা হয়, সেজন্য তারা শাসানি দিয়েছিল বলে অভিযোগ নাবালিকার মায়ের। হুমকিতে ভয় না পেয়ে রবিবার রাতে সাহস করে একাই মেয়েকে নিয়ে থানার দ্বারস্থ হন তিনি। সোমবার সকালে চাঁচল থানার পুলিস পকসো আইনে মামলা রুজু করে। হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করানোর পর গোপন জবানবন্দির জন্য নাবালিকাকে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করেছিল পুলিস।
নির্যাতিতার মা বলেন, মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। থানায় আসার আগে তার পরিবার শাসানিও দিয়েছে আমাদের। 
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিসের অনুমান, দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক থাকতে পারে। ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
তিনবছর আগে লকডাউনের সময় চাঁচলের একটি গ্রামের নাবালিকা  অপরিচিত যুবকের প্রেমে পড়ে। যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে নাবালিকা ঘর ছেড়ে তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। কাটাঁতার পেরিয়ে ওই নাবালিকাকে বাংলাদেশ নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানে প্রায় ১৫ দিন আটকে রাখে। মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে চাঁচল থানার পুলিস জানতে পারে নাবালিকা  রয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজারে। বাংলাদেশের পুলিসের সাহায্য নিয়ে প্রায় ১৫ দিন পর ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়।
পরে পুলিস জানতে পারে, নাবালিকাকে পতিতালয়ে বিক্রি করার ছক ছিল অভিযুক্তের। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় এবং নারী পাচার রুখতে বিভিন্ন এলাকায় সচেতন করছে পুলিস। তবুও কমবয়সীরা প্রলোভনে পা দিয়ে নিজের বিপদ ঢেকে আনছে। 
মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য রেহেনা পারভিন বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকাদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এরকম ঘটনা গ্রামাঞ্চলেই বেশি ঘটছে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ