সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বর্ধমান থেকে নবদ্বীপে ঢোকা এবং বেরনোর জোড়া ব্রিজের রাস্তার পরিস্থিতি বেহাল। নবদ্বীপের ১৪ নম্বর রেলগেট থেকে বর্ধমান যাওয়ার রাস্তায় পলতা বা মড়িগঙ্গার উপরে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুরানো এই জোড়া ব্রিজ। রাস্তার উপর আপ ও ডাউন এই ব্রিজ দু’টির দেখভাল করে পূর্তদপ্তর। প্রথমদিকে একটি ব্রিজ থাকলেও পরে আর একটি তৈরি করা হয়। তবে, প্রায় দু’বছর ধরে জোড়া ব্রিজের দু’দিকের রাস্তার বেশকিছু জায়গায় ভেঙে গর্ত হয়ে গিয়েছে। এর ফলে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে। জানা গিয়েছে, দু’-তিন মাস আগে নবদ্বীপ থেকে বর্ধমান যাওয়ার বাঁদিকের ব্রিজের রাস্তাটির ভাঙা অংশ মেরামত করা হয়। কিন্তু ডানদিকের অর্থাৎ বর্ধমান থেকে নবদ্বীপ আসার রাস্তাটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। অস্থায়ীভাবে দায়সারা ইট পেতে মেরামত করা হয়েছে। সেই ভাঙা অংশের উপর দিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টোটো, লরি, চারচাকা, দূরপাল্লার বাস সহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। নবদ্বীপ থেকে কালনা, কাটোয়া, বর্ধমান, বাঁকুড়া, আসানসোল, তারাপীঠ, তারকেশ্বর সহ বেশকিছু রুটের বাস, লরি চলাচল করে।
অভিযোগ, পিডব্লুডির তরফে মাঝেমধ্যে জোড়াতালি দিয়ে রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তা ফের ভেঙে যাচ্ছে। বর্তমানে বর্ধমানের দিক থেকে আসার ব্রিজের রাস্তাটি কোনোরকমে ইট দিয়ে সারানো হয়েছে।
পূর্তদপ্তরের নদীয়া হাইওয়ে ডিভিশন-১ এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বুলবুল ইসলাম বলেন, ৩০মিটার লম্বা দু’দিকের এই ব্রিজের রাস্তাটি সবসময় পর্যবেক্ষণেই থাকে। এখন সারানোর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই আশা করা যাচ্ছে দু’-এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে। একদিকের উপরিতল খারাপ হয়েছে। সারাইয়ের কাজ ভালভাবে করে দেওয়া হয়েছে। ডানদিকের খারাপ অংশটিও এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। সেই সময় গাড়ি একদিক দিয়ে চলাচল করবে। তবে, ব্রিজের কাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই।
বর্ধমানের বাসিন্দা পেশায় নবদ্বীপ-বর্ধমান রুটের বাসচালক বাবু বৈরাগ্য বলেন, প্রতিদিন বর্ধমান থেকে নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ডের মধ্যে দিনে চারবার যাতায়াত করতে হয়। জোড়া ব্রিজের রাস্তা দিয়েই যেতে হয়। ব্রিজে আসা-যাওয়ার দু’টি রাস্তা প্রায় দু’বছর ধরে খারাপ হয়ে আছে। যেকোনো সময় গাড়ির পাতি ভেঙে ব্রিজের পাশে পড়ে যেতে পারে। জোড়া ব্রিজের কাছে বৃদ্ধ সুশান্ত বিশ্বাসের হোটেল রয়েছে। তিনি বলেন, জোড়া ব্রিজের কাছ থেকেই নদীয়া জেলার শুরু আর পূর্ব বর্ধমানের শেষ। জোড়া ব্রিজটি দুই জেলার মধ্যে সীমানার কাজ করে। নবদ্বীপ থেকে বর্ধমানে যাওয়ার ডানদিকের লেনটি অনেক আগেই তৈরি হয়েছিল। বাঁদিকের লেনটি ১৯৮৪-’৮৫ সালে তৈরি হয়েছে। তার অনেক আগে প্রথমে ডানদিকের পুরানো ব্রিজের রাস্তা দিয়েই বিভিন্ন যানবাহন আসা-যাওয়া করত। পরবর্তীতে বাঁদিকের লেন তৈরি হয়।
নদীয়া জেলা বাস পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের নবদ্বীপ শাখার সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে বিভিন্ন রুটের প্রায় ১০ হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। শুধু নদীয়া ও বর্ধমানের মধ্যে নয়, এই রুটটি উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম যোগাযোগের রাস্তা। কালনা থেকে কয়েকটি সরকারি বাস উত্তরবঙ্গে চলাচল করে। বর্ধমান, বাঁকুড়া, আসানসোল, তারাপীঠ, তারকেশ্বর রুটের অসংখ্য বাস
চলে। -নিজস্ব চিত্র



