Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রকৃতি পাঠ! দেশি-বিদেশি গাছে মুড়ল ইন্দাসের বাগমারি প্রাইমারি

প্রকৃতির পাঠ দিতে ইন্দাসের বাগমারি প্রাইমারি স্কুলকে গাছ গাছালিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে

প্রকৃতি পাঠ! দেশি-বিদেশি গাছে মুড়ল ইন্দাসের বাগমারি প্রাইমারি
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: প্রকৃতির পাঠ দিতে ইন্দাসের বাগমারি প্রাইমারি স্কুলকে গাছ গাছালিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কী নেই সেখানে! ছাদবাগানে অজস্র দেশি ও বিদেশি ফুল-ফলের পাশাপাশি ভেষজ গাছে ভর্তি। গোটা স্কুল চত্বর সারিবদ্ধভাবে হরেক প্রজাতির গাছ গাছালিতে ভর্তি। রয়েছে চিলড্রেন পার্ক। সেখানে দোলনা থেকে শুরু করে খেলার উপযোগী নানা উপকরণ রয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের পরিচর্যায় ধীরে ধীরে স্কুলটিকে আস্ত একটি প্রকৃতি উদ্যানে পরিণত করা হয়েছে। এতে অভিভাবক থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসীরা ভীষণ খুশি হয়েছেন। আর এসব কিছুর পুরস্কার হিসেবে রাজ্য সরকারের তরফে মিলেছে নির্মল বিদ্যালয়ের তকমা। বাগমারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৃণালকান্তি নন্দী বলেন, ছাত্রছাত্রীদের অচেনা গাছ চেনানো এবং উপকারিতা হাতে কলমে বোঝানোর জন্যই মূলত দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গাছ গাছালি লাগানো হয়। সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর জন্য প্রতিবছরই নতুন নতুন গাছ লাগানো হয়। এভাবে গত ১৯বছর ধরে শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের লালনপালনের ফলে বর্তমানে কয়েকশো প্রজাতির বিভিন্ন ফুল, ফল, ভেষজ গাছ রয়েছে। অভিভাবকরাও এব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দাসের আমরুল গ্রামপঞ্চায়েতের বাগমারি গ্রামে ১৯৫৪সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠে।  বাগমারি ও কানকাটা এই দুই গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯৫শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৃণালকান্তি নন্দী ছাড়াও শান্তনু নন্দী, চন্দনকুমার মণ্ডল ও হারাধন মণ্ডল নামে অপর তিন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। পড়ুয়ার সংখ্যা ৯৭জন। প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত পাঁচিল ঘেরা বিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকলেই মনে হবে যেন কোনও উদ্যানে এসেছি। গোটা স্কুল চত্বরে বাহারি গাছ গাছালিতে ভর্তি। রয়েছে প্রজাপতির আকৃতির গাছ, জলের ফোয়ারা, শিশুদের খেলনা। ছাদে রয়েছে আস্ত একটি বাগান। সেখানে প্রায় ১০০প্রজাতির ক্যাকটাস থেকে শুরু করে পদ্ম, শালুকের মতো জলজ উদ্ভিদ রয়েছে। মিয়াজাকি, থাইল্যান্ডের আম ছাড়াও অ্যাভোগার্ডো, লঙ্গন, আঙুর, লেবু, আপেল, নারকেল, সজনে, কামরাঙা, কাঁঠাল প্রভৃতি দেশি ও বিদেশি ফলগাছ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ইনসুলিন, মৃত সঞ্জিবনী, সর্পগন্ধা, অশ্বগন্ধা, মৎস্যগন্ধা, তুলসি, ননী সহ প্রায় দেড়শো প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদ। পরিবেশবান্ধব হিসেবে ২০১৭সালে বিদ্যালয়টি নির্মল বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। আধুনিক পড়াশোনার জন্য ব্লক প্রশাসনের তরফে বিদ্যালয়ে একটি স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ