নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভাইরাল অডিও ক্লিপিংস-কাণ্ডে বীরভূমের জেলা পুলিস সুপার আমনদীপকে নোটিস পাঠিয়ে তলব করল জাতীয় মহিলা কমিশন। আগামী ১৪ জুলাই তাঁকে দিল্লিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। সেই নোটিস খারিজের আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার পুলিস সুপার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন। জেলা পুলিসমহল সূত্রে খবর, আজ, বুধবার মামলার শুনানি হতে পারে। একাংশ পুলিস কর্তাদের দাবি, জাতীয় মহিলা কমিশন পুলিসের তদন্তে হস্তক্ষেপ করছে। যা কখনই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত। যদিও এনিয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। কোনও মন্তব্য করতে চাননি পুলিস সুপারও।
চলতি বছরের ২৯ মে সামাজিক মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপিংস ভাইরাল হয়। সেই অডিওতে কথোপকথন ছিল বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদার ও তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের মধ্যে। যদিও ‘বর্তমান’ ওই অডিও ক্লিপিংসের সত্যতা যাচাই করেনি। অডিওতে শোনা গিয়েছে, বোলপুর থানার আইসিকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে। তাঁর স্ত্রী ও মা'কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছে। সেই ঘটনায় পুলিস শুরুতেই সুয়োমোটো মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। অনুব্রত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। অন্যদিকে, বোলপুর থানার আইসির মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করা হয়। ওই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশন জেলা পুলিস সুপারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল। জেলা পুলিসের তরফে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্টও পেশ করা হয়। যদিও কমিশন তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেনি। এরপরই কমিশনের তরফে নোটিস পাঠিয়ে পুলিস সুপারকে দিল্লিতে তলব করা হল।
জেলা পুলিস সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে নোটিস পাঠিয়ে চলতি মাসের ১ তারিখ পুলিস সুপারকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। নোটিসে উল্লেখ ছিল, পুলিস সুপারের অনুপস্থিতিতে তদন্তকারী অফিসারকে হাজিরা দিতে হবে। তবে, পুলিস সুপারের অফিসের তরফে কমিশনের কাছে ভার্চুয়াল হাজিরার আর্জি জানানো হয়েছিল৷ যদিও কমিশন তাতে রাজি হয়নি। ফলত, ১ তারিখ পেরিয়ে যেতেই কমিশন নতুন করে নোটিস পাঠায়। ওই নোটিসে আগামী ১৪ তারিখ হাজিরার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিস সুপার এবার সরাসরি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন। এখন জল কোনদিকে গড়ায় তা দেখার বিষয়। • বীরভূমের পুলিস সুপার আমনদীপ।