Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষায় বেহাল জাতীয় ও রাজ্য সড়ক, দুর্ঘটনা বাড়ছে বাঁকুড়ায়

জাতীয় সড়ক হোক কিংবা রাজ্য সরকারের আওতায় থাকা রাস্তা, বর্ষায় চরম বেহাল হয়ে পড়েছে। যার জেরে দুর্ভোগে পড়ছেন বাঁকুড়ার বাসিন্দারা।

বর্ষায় বেহাল জাতীয় ও রাজ্য সড়ক, দুর্ঘটনা বাড়ছে বাঁকুড়ায়
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জাতীয় সড়ক হোক কিংবা রাজ্য সরকারের আওতায় থাকা রাস্তা, বর্ষায় চরম বেহাল হয়ে পড়েছে। যার জেরে দুর্ভোগে পড়ছেন বাঁকুড়ার বাসিন্দারা। কিছু রাস্তা কার্যত যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দু’দিন আগে গঙ্গাজলঘাটি থানার দুর্লভপুরে বেহাল রাস্তার কারণে লরির সঙ্গে সংঘর্ষে এক বাইক আরোহীর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। সোমবার বেহাল রাস্তা মেরামতের দাবিতে রাইপুরের মটগোদায় রাস্তা অবরোধ করে বাম নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, রাইপুর ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় থানার আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। রাস্তা মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ ওঠে। 

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, ওই রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পূর্ব নির্ধারিত ছিল। রাইপুরের বিডিও ও স্থানীয় থানার আইসি সহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আধিকারিকরা আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ তুলে দেন। 
পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। জেলার বাকি অংশের বেহাল রাস্তাও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিন অবরোধের খবর পেয়ে আধিকারিকরা রাইপুরে গিয়েছিলেন। ওই রাজ্য সড়ক বেহাল হয়ে পড়ার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলার একাধিক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবিলম্বে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক, বাঁকুড়া-দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর-কোতুলপুর ও বেলিয়াতোড় থেকে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ সীমানা পর্যন্ত রাস্তার বেশ কিছু জায়গা বেহাল হয়ে পড়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে রাস্তাগুলি খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। বেলিয়াতোড় থেকে সোনামুখী পর্যন্ত রাস্তার মান কিছুটা ভালো থাকলেও সোনামুখী থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত অংশ সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক ও বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুর জাতীয় সড়কে থাকা গর্ত বুজিয়ে ফেলা হলেও তাতে সেভাবে কাজ হয়নি। যানবাহনের চাকার চাপে গর্তে ফেলা পিচ ও পাথরের টুকরো ফের উঠে যায়। সেখানে জল জমে গর্তের আকার আরও বৃদ্ধি পায়। 
এদিন রাইপুরে অবরোধ তুলতে গিয়ে পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক সংস্কারে গাফিলতির বিষয়টি মেনে নিয়ে মাটি পরীক্ষার কথা বলেন। কেনও রাস্তা সংস্কারের আগে মাটি পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়ে বিক্ষুব্ধরা আধিকারিকদের সামনে প্রশ্ন তোলেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই রাস্তা মেরামতের সময় পুরানো পিচের স্তর পুরোপুরি তুলে ফেলা হয়নি। এমনকী বেশ কিছু জায়গায় পুরনো পাথর ব্যবহার করা হয়। পূর্তদপ্তরের উদাসীনতার কারণেই রাস্তাটি সংস্কারের এক বছরের মধ্যে বেহাল হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা এদিন সরব হন। তাপ্পি মেরে দায় সারার পরিবর্তে অবিলম্বে নতুন করে ডিপিআর তৈরির পর রাস্তার আমূল সংস্কারের দাবিও তাঁরা তুলেছেন। তা না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে বলে বাসিন্দারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ