সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: জাতীয় স্তরে অ্যাক্রোব্যাটিকস জিমন্যাস্টিকসে বাংলার ৭২টি সোনার পদকের মধ্যে ৪৪টি সোনার পদকই পেয়েছে নবদ্বীপের ছেলেমেয়েরা। জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার পরিচালনায় ১৬তম অ্যাক্রোব্যাটিকস জিমন্যাস্টিকস ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ এই সাফল্য এসেছে। গত ৭-১০ আগস্ট উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের মহারাণা প্রতাপ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতা। নবদ্বীপ শহরের ৩৬ জন প্রতিযোগী বাংলা দলের হয়ে জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। ওই ৩৬জন প্রতিযোগী ৪৪টি সোনার পদক বাংলাকে এনে দিয়েছে।
এরমধ্যে নবদ্বীপ ক্রিয়েটিভ জিমন্যাস্টিকস অ্যাকাডেমির ১৩ জনের মধ্যে ৭ জন এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে রাজ্যের হয়ে খেলতে গিয়েছিল। এদের মধ্যে ১১-১৬ বছর গ্রুপে সুলগ্না ভট্টাচার্য, মেঘা কর্মকার ও নন্দিনী বর্মণ মহিলা বিভাগে দু’টি করে সোনার পদক জয় করে। একই বয়সি গ্রুপে পুরুষ বিভাগে অংশ নেয় রামেশ্বর সাউ, রাজ মজুমদার, শুভদীপ পাল এবং শুভময় ঘোষ – এরা প্রত্যেকেই ১টি করে সোনা ও ১টি করে রুপোর পদক জিতেছে। ১২-১৮ বছরের গ্রুপে পুরুষ বিভাগে অংশ নিয়ে রাজদীপ কর্মকার, শুভম ঘোষ, ময়ূখ অধিকারী ও মহম্মদ মৈনাক মনসুর। প্রত্যেকে ২টি করে সোনার পদক জয় করেছে। এছাড়াও জুনিয়র বিভাগের(১৩-১৯ বছর) ওমেন্স পেয়ার ইভেন্টে রাইনা মজুমদার ও অনুসৃতা ভট্টাচার্য ৪টি করে সোনা জেতে। মোট ১৩ জনের দল ২৬টি সোনা ও ৪টি রুপোর পদক অর্জন করে।
অন্য দিকে নবদ্বীপ দেহসৌষ্ঠবের আবির সাহা ও শ্রেষ্ঠা সাহা ১১-১৬ মিক্সড পেয়ার ইভেন্টে ১টি করে করে সোনা ও ১টি করে রুপোর পদক পেয়েছে। ১২-১৮ বছরের বিভাগে মিক্সড পেয়ার ইভেন্টে অরিত্র ঘোষ ও নীলাঞ্জনা দাস ১টি করে সোনার পদক লাভ করেছে। ১৩-১৯ জুনিয়র বিভাগে ওমেন্স গ্রুপ ইভেন্টে আরূশি দাস, নিশা সরকার ও বিদিশা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩টি করে সোনা ও ১টি করে রুপো এবং একই গ্ৰুপে স্বর্ণদীপ ভট্টাচার্য ও সাহেব দেবনাথ ১টি করে সোনার ও ১টি করে রুপোর পদক অর্জন করেছে। এছাড়াও নবদ্বীপের আর একটি সংস্থা থেকে ১২-১৮ গ্রুপে ওমেন্স বিভাগে তিন প্রতিযোগী ১টি করে সোনা ও একটি করে রুপোর পদক জিতেছে।
জাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন টিম ঘোষণা করা হয়। দিল্লি, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু সহ ১৫টি রাজ্য থেকে প্রায় ১২০০ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল। নদীয়া, হুগলি, বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, বাঁকুড়া মিলিয়ে রাজ্যের মোট ৭টি জেলার ১০৪ জন প্রতিযোগী নিয়ে বাংলা দল গঠিত হয়েছিল। ক্রিয়েটিভ জিমন্যাস্টিকস অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষক বিশ্বরূপ সরকার বলেন, আমাদের প্রশিক্ষণের সাধারণ পরিকাঠামোটুকুও নেই। এর সঙ্গে গত তিন মাস ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারা যায়নি। তা সত্ত্বেও এই শহরের ছেলেমেয়েরা এতগুলি পদক জিতেছে। যা ভাবতে গেলে অবাক হতে হয়।
নবদ্বীপ দেহ-সৌষ্ঠবের সম্পাদক রাখাল মজুমদার বলেন, প্রতিযোগীদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার থেকে উঠে এসেছে। সরকারি সাহায্য পেলে আগামী দিনে ওরা দেশের হয়ে পদক এনে দিতে সক্ষম হবে।