সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দিরা আবাস কলোনিতে ১৯৯৫ সাল থেকে যাঁরা বসবাস করে আসছেন, তাঁদের একাধিক জনের নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে। ইনিউমারেশন ফর্ম ফিল আপ করতে অসুবিধায় পড়েছেন তাঁরা। আবেদনপত্র পূরণে পরিচয়পত্র আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা পুরসভা থেকে পরিচয় পত্রের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলারের তরফ থেকেও পুরসভাকে বিষয়টি দেখার জন্য জানানো হয়েছে।
রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণি বাউরি বলেন, যাদের ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই, তাঁরা আগে যেখানে বসবাস করত সেখানে খোঁজ নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। যদি না পায়, তখন পরিবারগুলির আবাস যোজনা ও জমির কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হবে। তবে ভয়ের কিছু নেই।
পুরসভার একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৯৫ সালে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি উদ্বাস্তু পরিবারকে সরকারি আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের ভোটার কার্ডও হয়। তখন থেকেই তাঁরা ভোট দিয়েও আসছেন। অথচ বর্তমানে দেখা গিয়েছে ২০০২ সালের লিস্টে অনেকেরই নাম নেই। সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে, ২০০৪ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা নাগরিকদের জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ সরকারি আবাস অথবা জমির পরচা দিলেই কাজ হয়ে যাবে। তাই কলোনির বাসিন্দারা ১৯৯৫ সালের আবাস যোজনা দেওয়ার শংসাপত্র ও জমির পরচা দেওয়ার জন্য পুরসভাকে আবেদন জানিয়েছে।
কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে কুড়ানী মণ্ডল, ছায়া দে, বেলা সেন বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে কলোনিতে বসবাস করছি এবং ভোট দিয়ে আসছি। আমাদের অনেকের বাবা, মা, দাদুদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই। আবার এখনকার তালিকাতেও নাম নেই। ফলে বিপাকে পড়েছি। আমাদের নামে আবাস দেওয়া হয়েছিল। তাই পুরসভাকে জমির পরচা বা আবাসের কাগজ দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।
কংগ্রেস কাউন্সিলার দেবযানী পরামানিক বলেন, কলোনির অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের জন্ম শংসাপত্র, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাগজ ছাড়া অন্যান্য নথি নেই। তাই একমাত্র প্রমাণ হিসেবে জমির পরচা বা সরকারি আবাসের কাগজই ভরসা।
তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন, তৃণমূল থাকতে তাঁদের কারও অসুবিধা হবে না।