Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২০০২ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে শোরগোল, মুরারইয়ের রাজগ্রাম পঞ্চায়েত ১৯০০ ভোটারের নাম উধাও

এসআইআরের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই সেই তালিকা আপলোড করা হয়েছে রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের অফিসিয়াল সাইটে।

২০০২ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে শোরগোল, মুরারইয়ের রাজগ্রাম পঞ্চায়েত ১৯০০ ভোটারের নাম উধাও
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট : এসআইআরের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই সেই তালিকা আপলোড করা হয়েছে রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের অফিসিয়াল সাইটে। ভোটাররা চাইলেই দেখে নিতে পারেন ২০০২ সালের তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে কিনা। আপলোডও করে রাখতে পারেন। কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে সেই ওয়েবসাইট থেকে উধাও মুরারই বিধানসভার রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫ নম্বর পার্টের প্রায় ১ হাজার ৯০০ ভোটারের নাম। এমনকী, নাম নেই ওই পার্টের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর পরিবারের। ফলে এসআইআর নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়েছেন সকলেই। বিষয়টি পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে জানিয়েছেন তাঁরা। মুরারই ১ ব্লকের বিডিও অবশ্য আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ঠিক সময়ে তালিকা আপলোড হয়ে যাবে।  

Advertisement

বিহারের পর এসআইআর বাংলায়—স্পষ্ট করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে এই প্রথম বার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন হচ্ছে, এমনটা নয়। ২০০২ সালেও ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন হয়েছিল। বিহারেও হয়েছিল ২০০৩ সালে। বাংলায় এসআইআরের ক্ষেত্রে ‘বিহার মডেল’ ফলো করা হলে ২০০২ সালের সেই বিশেষ ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিহারেও এসআইআরের সময়ে বলা হয়েছিল, কারও যদি ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকে, তা হলে তাঁকে আলাদা করে নথি  না দেখালেও চলবে। 
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূমের মুরারই, রামপুরহাট এবং রাজনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা খুঁজে পাচ্ছিল না কমিশন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ২০০২ সালের বিভিন্ন জেলার ভোটার তালিকা আপলোড করা হয়েছে রাজ্যের নির্বাচনী অধিকারিকের দপ্তরের ceowestbengal সাইটে। তাতে অন্যান্য জেলার পাশাপশি এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা রয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেই তালিকা থেকে মুরারই বিধানসভার রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫ নম্বর পার্টের ভোটার লিস্টটাই উধাও।  
ওই পার্টের বাসিন্দা মুন্সি কলিম হোসেন বলেন, ‘বহু বছর ধরে ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর পার্টের ভোটাররা আম্ভুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপরিবারে ভোট দিয়ে এসেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইডে এই পঞ্চায়েতের ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর পার্টের ২০০২ সালের ভোটার লিষ্ট থাকলেও ১৫ নম্বর পার্টের ভোটার তালিকা নেই। আশেপাশের পার্টের তালিকাও খোঁজা হয়েছে। কিন্তু এলাকার কারও নাম নেই। এসআইআরের জন্য ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকতেই হবে। এমতাবস্থায় গভীর চিন্তায় পড়েছি। কোথাও যাব, কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।’ 
একইভাবে বেকায়দায় পড়েছেন ১৫ নম্বর পার্ট থেকে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য গণেশ রাজবংশী। তিনি বলেন, ‘কমিশনের ওয়েবসাইটে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও এই পার্টের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা পাচ্ছি না। গত তিনটি নির্বাচন থেকে ১৫ পার্টের দু’জন মেম্বার। তার মধ্যে রাজবংশী পাড়ার ১০৮৪ ও কুঁড়াপাড়ায় ৮০০’র বেশি ভোটার। কিন্তু, এই ১৯০০ ভোটারের কারও নাম পাওয়া যাচ্ছে না। এসআইআর নিয়ে খুবই চিন্তায় রয়েছি। পুরো এলাকার মানুষ ফোন করছেন। বিষয়টি পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে জানানো হয়েছে।’  পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রমেশ ভকত বলেন, ‘১ থেকে ১৭ নম্বর পার্ট নিয়ে এই পঞ্চায়েত এলাকা। তাতে ১৫ নম্বর বাদে সব পার্টের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা কমিশনের ওয়েবসাইটে রয়েছে। বিষয়টি বিডিওকে জানিয়েছি।’
মুরারই ১ ব্লকের বিডিও বীরেন্দর অধিকারী অবশ্য বলেন, ‘বিষয়টি জানি। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। এসআইআরের নোটিফিকেশনের আগেই ওই পার্টের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা কমিশনের সাইটে আপলোড হয়ে যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ