নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: প্রকাশিত হয়েছে নিবিড় সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা। সেই তালিকায় পুরুলিয়া জেলার ২২ লক্ষ ৩৮ হাজার ২৬ জন ভোটারের নাম উঠেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর পর্বে মৃত সহ পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট ও আনট্রেসেবল ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই সংখ্যাটি ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৪১৬। এরমধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা সব থেকে বেশি। তারপরেই রয়েছে পাকাপাকি ভাবে স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা। অন্যদিকে, ডুপ্লিকেট ও আনট্রেসেবল ভোটারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গলমহলের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতারা কোমর বেঁধে আসরে নামতে চলেছেন। ইতিমধ্যে বুথস্তরে বিএলএ-২ দের স্ক্রুটিনি করার জন্য পৃথকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, একজনও বৈধ ভোটারের নাম যেন কোনওভাবে বাদ না যায়। জেলাশাসক কোন্থাম সুধীর বলেন, জেলার প্রতিটি বুথেই খসড়া তালিকা টাঙানো হবে। সেইসঙ্গে নাম বাদের তালিকাও টাঙানো হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও খসড়া তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক হেয়ারিং পর্ব শুরু হবে।
কমিশনের নির্দিষ্ট করা দিনেই খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে। তাতেই স্পষ্ট হয়েছে, জেলাজুড়ে মোট ৩৭ হাজার ৮২৫ জন ভোটারের নাম ম্যাপিং হয়নি। আগামীতে কমিশনের নির্দেশানুসারে তাঁদের হেয়ারিংয়ে ডাকা হবে। অন্যদিকে, জেলাজুড়ে ৭.৫৭ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিগতদিনে জঙ্গলমহল পুরুলিয়া জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল জেলার মোট ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ৪৪২। খসড়া তালিকা অনুসারে সেই সংখ্যা একলাফে অনেকটাই কমল। জেলা প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করে তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। ভুলভ্রান্তির কোনও অবকাশ নেই। তারপরও যদি কোনও ভোটারদের নাম খসড়া তালিকায় না থাকে, সেক্ষেত্রে চিন্তার কোনও কারণ নেই। নির্দিষ্ট ওই ভোটার নাম তুলতে পারবেন। এই প্রেক্ষিতে এবার প্রতিটি রাজনৈতিক দলই কোমর বাঁধতে শুরু করেছে। নাম বাদের তালিকা সামনে রেখে বুথভিত্তিক স্ক্রুটিনি শুরু হতে চলেছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই পৃথকভাবে এই কাজ শুরু করতে চলেছে। এক্ষেত্রে দলগুলি নিজেদের মতো করে বিএলএ-২'দের সময়ও বেঁধে দিয়েছে।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত বলেন, প্রত্যেক বিএলএ-২'দের তালিকা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কোনও ভুলত্রুটি নজরে এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শংকর মাহাত বলেন, প্রত্যেক বিএলএ-২'দের হাতে তালিকা পৌঁছে দেওয়া হবে। বুথভিত্তিক সেই তালিকা স্ক্রুটিনি করার জন্য বলা হয়েছে। মূলত খসড়া তালিকায় কোনও অবৈধ ভোটারের নাম রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাত বলেন, খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে। দলগতভাবে এবার সেই তালিকা খতিয়ে দেখা হবে। অনৈতিকভাবে কোনও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই দলগতভাবে স্ক্রুটিনি করা হবে। এই কাজের জন্য বিএলএ-২'দের তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে।