Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দকুমার, ময়নার ১৪১ জন ভূতুড়ে ভোটারের নাম বাতিল

নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত করা ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভায় ১৪১ জন ভূতুড়ে ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।

নন্দকুমার, ময়নার ১৪১ জন ভূতুড়ে ভোটারের নাম বাতিল
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত করা ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভায় ১৪১ জন ভূতুড়ে ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। তারমধ্যে ময়না বিধানসভায় ৭৬ জন এবং নন্দকুমার বিধানসভায় আরও ৬৫ জন রয়েছে। ভূতুড়ে ভোটার তোলার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তমলুক ব্লকের ওসি ইলেকশন সুদীপ্ত দাসকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এবার তাঁকে ভোটের যাবতীয় কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রাজ্য সরকার চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে।

Advertisement

পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভায় মোট ১৪১টি অস্তিত্বহীন ভোটার চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ভুয়ো আধার ও প্যানকার্ড আপলোড করে অনলাইনে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করার পর তমলুক ব্লকের ওসি ইলেশনের হাত ধরে সেইসব ভূতুড়ে ভোটারদের নাম তালিকায় ওঠে যায়। তমলুক ব্লকের অনন্তপুর-১ ও ২, নীলকুণ্ঠ্যা, শ্রীরামপুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত ময়না বিধানসভার মধ্যে পড়ে। তাছাড়া, ওই ব্লকের বিষ্ণুবাড়-১, পদুমপুর-১ ও ২ পঞ্চায়েত নন্দকুমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে। তমলুক বিডিও অফিসে অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে। তিন বছর আগে ঠিক এভাবেই তমলুক ব্লকের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টরের হাত ধরে প্রায় দেড়শো ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট বানানো হয়েছিল। সেই অফিসারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রও বাতিল করেন মহকুমা শাসক।
উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, শ্যামনগর সহ বিভিন্ন জায়গার সাইবার কাফেতে ওইসব নথি আপলোড করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা হয়েছিল। সঙ্গে একটি করে মোবাইল নম্বরও ছিল। কিন্তু, প্রত্যেকটি নম্বর সুইচ অফ। ওই ঘটনায় তমলুক ব্লকে পঞ্চায়েত অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার তথা ওসি ইলেকশন সুদীপ্ত দাস জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই অফিসারের বাড়ি মধ্যমগ্রামে। ওই চক্রটি অফিসারের সঙ্গে যোগসাজস করেই ভূতুড়ে ভোটারদের নাম তালিকায় তুলেছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
ভূতুড়ে ভোটারদের নাম কীভাবে তালিকায় এল, তা নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ২৮ জুলাই ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার এবং ২ আগস্ট নন্দকুমারের ইআরও সৌরভ মিত্রকে তলব করেন। তাঁদের নিজেদের বিধানসভায় ভূতুড়ে ভোটারদের নথি দেখিয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। আবেদনকারীরা কোন বুথে ভোটার হতে চান, তার উল্লেখ নেই। পূর্বসূরিদের তথ্য নেই। আধার ও প্যান আবছা করে আপলোড করা হয়েছে। আবেদনপত্র দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, ভূতুড়ে নাম তুলতে এভাবে আবেদন করা হয়েছে। তারপরও কীভাবে সেইসব নাম ভোটার তালিকায় ওঠে এল?
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাসপেন্ড হওয়া ওসি ইলেকশন একসঙ্গে তিনজনের লগ-ইন আইডি অ্যাকসেস করে অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম তালিকায় তুলেছেন। তাঁর কাছে ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল অফিসার (এইআরও) এবং অপারেটরের আইডি ছিল। তিনটি স্তরে ‘ওকে’ করার পরই তালিকায় নাম ওঠে গিয়েছে। ওই ঘটনার পর ময়না ও নন্দকুমারের দুই ইআরও তমলুক ব্লকের ওসি ইলেকশনকে শোকজ করেন। তিনি ঘটনার দায় এড়িয়ে যান। দায় এড়ালেও প্রশাসন ওই অপকর্মের জন্য তাঁকেই চিহ্নিত করে সাসপেন্ড করে। পাশাপাশি মুখ্যসচিবের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাঠানো হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ