Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নলহাটি: মাদ্রাসায় পড়ে গিয়ে ছাত্রী অসুস্থ, কর্তৃপক্ষের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের অভিভাবকের

মাদ্রাসা চলাকালীন পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারালেন ছাত্রী। এই ঘটনায় নলহাটির ভবানীপুর হাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবারের সদস্যরা।

নলহাটি: মাদ্রাসায় পড়ে গিয়ে ছাত্রী অসুস্থ, কর্তৃপক্ষের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের অভিভাবকের
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাদ্রাসা চলাকালীন পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারালেন ছাত্রী। এই ঘটনায় নলহাটির ভবানীপুর হাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে ওই ছাত্রী রামপুরহাট মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। এই ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছাত্রীর পরিবার। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে। 

Advertisement

এই ব্যাপারে তৃণমৃল মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি মহম্মদ ফজলে মৌলা খান বলেন, ওই ছাত্রীকে কাছাকাছি কোনও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। তা না করে ভুল হয়েছে। নিজের বাচ্চা হলে ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা কী করতেন? ছাত্রীটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
ভবানীপুর হাইমাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী নূরিনা খাতুনের বাড়ি ভবানীপুর গ্রামে। প্রতিদিনের মতো বুধবারও সে মাদ্রাসায় যায়। এদিন দুপুরে সহপাঠীদের মারফত নূরিনার পরিবার জানতে পারে মেয়ে  মাদ্রাসায় পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়েছে। ছাত্রীর দাদু  হাতেম শেখের অভিযোগ, মাদ্রাসায় গিয়ে দেখি নাতনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে কোনও শিক্ষক ওর মাথায় জল পর্যন্ত দেয়নি!
তড়িঘড়ি ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে পরিস্থিতি বিচার করে রামপুরহাট মেডিক্যালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন নূরিনা। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতেই ছাত্রীর বুকের এক্সরে হয়েছে। মাথার সিটিস্ক্যান হয়েছে।
দাদু হাতেম শেখ আরও বলেন, মিড-ডে মিল খাওয়ার শেষে বাচ্চারা ক্লাসে ঢোকার সময় সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে নাতনি পড়ে জ্ঞান হারায়। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওকে সুস্থ করে তুলতে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি আমাদেরও কিছু জানায়নি। ‌‌অন্য ‌পড়ুয়াদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা মাদ্রাসায় যাই। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও চূড়ান্ত গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যাবহার করেছেন। ওঁরা নাতনিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেনি। তাই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হারুণ রশিদ বলেন, অনেকজন ‌‌পড়ুয়া একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে ওই ছাত্রী পা হড়কে পড়ে যায়। পরিবারের লোকেরা মাদ্রাসায় এসে ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান।  কোনও গাফিলতি নয়, মাদ্রাসার ১৭-১৮ জন শিক্ষকই পডুয়াদের কেয়ার করেন। কিন্তু ‌ পডুয়াদের মধ্যে কে,কাকে চড়, ঘুষি মারছে সেটা সবসময় দেখা সম্ভব হয় না। ওই ছাত্রীর চিকিৎসা বাবদ যা খরচ হবে তা আমরা দিয়ে দেব। 
 নলহাটি থানায় অভিযোগ দায়ের করে বেরিয়ে আসছেন অসুস্থ হয়ে পড়া ছাত্রীর দাদু। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ