Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালিক ও ভাড়াটিয়া সম্পর্কে তথ্য জমার নির্দেশ, জেএমবি জঙ্গি ধরা ‌পড়তেই কড়া নলহাটি পুরসভা

এবার বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য যাচাইয়ে কড়া হল নলহাটি পুরসভা। নির্দিষ্ট ফর্ম ফিলাপ সহ আধার কার্ডের জেরক্স ও ছবি জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হল।

মালিক ও ভাড়াটিয়া সম্পর্কে তথ্য জমার নির্দেশ, জেএমবি জঙ্গি ধরা ‌পড়তেই কড়া নলহাটি পুরসভা
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এবার বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য যাচাইয়ে কড়া হল নলহাটি পুরসভা। নির্দিষ্ট ফর্ম ফিলাপ সহ আধার কার্ডের জেরক্স ও ছবি জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হল। নলহাটিতে জেএমবি জঙ্গি ধরা পড়ার পরেই তৎপর হল প্রশাসন। আজ সোমবার থেকে পুরসভা সেই ফর্ম বিলি করবে। দ্রুত দু’কপি ফর্ম ফিলাপ করে জমা করতে হবে। পুরসভার প্রশাসক তথা এলাকার বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং বলেন, একটা কপি থাকবে থানায়, অন্যটি পুরসভায়। ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে পুলিস। জেলা পুলিসের পক্ষ থেকে বাড়ির মালিক থেকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

Advertisement

গত ৯ মে নলহাটির চণ্ডীপুর ও লাগোয়া মুরারই থানার চাতরা গ্রাম থেকে আজমল হোসেন ও সাবের আলি খানকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তাদের জেরা করে ডায়মন্ডহারবারের পাতরা গ্রাম থেকে মহম্মদ আবাসউদ্দিন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা সকলেই দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মোবাইল ঘেঁটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্র পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। এলাকায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। তবে এব্যাপারে সতর্ক নন নলহাটির বেশিরভাগ বাড়ির মালিক। তাঁরা ভাড়াটিয়াদের তথ্য রাখছেন না। পুলিসের পক্ষ থেকে খাগড়াগড় কাণ্ডের পর বাড়ির মালিকদের ভাড়াটিয়াদের সার্বিক তথ্য যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনও বেশির ভাগ বাড়িওয়ালা জানেন না, তাঁদের ভাড়াটিয়াদের যাবতীয় তথ্য। ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। নলহাটি শহর এলাকায় এক লক্ষের কাছাকাছি মানুষ বসবাস করলেও দুই-তৃতীয়াংশই ভাড়াটিয়া। লাগোয়া রয়েছে বৃহৎ পাথর শিল্পাঞ্চল। এখান থেকে পাথর যায় বাংলাদেশে। ফলে বাংলাদেশিদের যাওয়া আসা রয়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, মুর্শিদাবাদ, রাজস্থান সহ বহু দেশের মানুষ নলহাটিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই ব্যবসা চালান। কেউ কেউ আবার এখান জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন। এছাড়া বাইরে থেকে বিভিন্ন স্তরের শ্রমিক এখানে বসবাস করেন। তবে এই বিপুল সংখ্যক ভাড়াটিয়ার অর্ধেকের বেশির কোনও তথ্যই নেই বাড়ির মালিকের কাছে। ফলে পরিচয় গোপন করে বাসাভাড়া নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে সহজেই পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফর্মে ১৮ রকমের প্রশ্ন রয়েছে। যেমন বাড়ির মালিকের নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর। একইভাবে ভাড়াটিয়া ও তাঁর বাবার নাম, বয়স। জন্মস্থান, পূর্বের এবং বর্তমান ঠিকানা। কোন ভাষায় কথা বলেন, পেশা কী, কতদিনের জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছেন। উচ্চতা, চুলের স্টাইল, শনাক্তকরণ চিহ্ন সবই জানাতে হবে। সেই সঙ্গে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার পরিবারের সকল সদস্যর আধারকার্ড, ভোটারকার্ড বা পাসপোর্ট ও ছবি সহ সাপোর্টিং ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ লাগোয়া এই পুরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে বহিরাগতরা বাড়ি বানিয়ে বা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। তাঁদের কেউ কেউ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। কেউ আবার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বহিরাগতদের আশ্রয় দিয়েছেন। পুরসভা থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের কাছে জমা পড়া ফর্ম ও ডকুমেন্ট সঠিক কি না, তা পুলিসের কাছে পাঠিয়ে যাচাই করা হবে। সেক্ষেত্রে ভুল বা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে তথ্য জমা না করলেও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়তে হবে। নাগরিকদের সচেতন ও প্রশাসনিক নির্দেশ মানার জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ