Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০ বছর আগের স্মৃতি ফেরাল নাগরোটার গুলি কাণ্ড

১০ বছর আগের স্মৃতি ফেরাল নাগরোটার গুলি কাণ্ড
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর। হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পরে উত্তাল ছিল কাশ্মীর উপত্যকা। সেই সময়ই ভারতীয় সেনার নাগরোটা বেসে হানা দেয় তিন সশস্ত্র জঙ্গি। তিন জঙ্গিকেই নিকেশ করে সেনা। গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় দুই অফিসার সহ সাত জওয়ানের। শনিবার রাতে ফের গুলির লড়াইয়ে সাক্ষী থাকল এই নাগরোটা মিলিটারি স্টেশন। গুলির লড়াইয়ে আহত হয়েছেন এক সেন্ট্রি। ঘাতক পলাতক। তার খোঁজে চলছে জোরদার তল্লাশি। এই ঘটনা ফিরিয়ে আনল সাড়ে সাত বছর আগের জঙ্গি হামলার স্মৃতি। তবে এই হামলাকে রবিবার রাত পর্যন্ত জঙ্গি হানা বলেনি সেনা। 

Advertisement

যখনই দুই দেশের মধ্যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখনই সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বেস বা ইনস্টলেশনগুলি সফ্ট টার্গেট হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে নির্দিষ্ট একটি কৌশল কাজে লাগিয়ে শত্রু পক্ষ লো ইনটেনসিটি কনফ্লিক্ট বা কম তীব্রতার সংঘর্ষ করাতে চায় বলে জানাচ্ছেন ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সঞ্জয় শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, এখন এই কৌশল আর কার্যকরী হচ্ছে না। আগে ভাগেই সেনা তা নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছে। নাগরোটার ক্ষেত্রেও এমন কিছু হতে পারে বলে অনুমান তাঁর। ঠিক কী হয়েছিল শনিবার রাতে? সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়, ‘নাগরোটার মিলিটারি স্টেশনের কাছে সন্দেহভাজনদের আনাগোনা নজরে এসেছিল। স্টেশনের অদুরেই ডিউটিতে থাকা সেন্ট্রি তাকে চ্যালেঞ্জ করে। তারপরই দু’জনের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। সেন্ট্রি আহত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা। তাদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।› অর্থাৎ, দুষ্কৃতী সশস্ত্র ছিল, সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাহলে তারা আর না এগিয়ে গা ঢাকা দিল কেন? সমর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গতকাল রাতে তারা হয়তো হামলা করতেই আসেনি। রেকি করতে এসেছিল। সেই সময়ই সেন্ট্রি চ্যালেঞ্জ করায় গুলি চালিয়ে দিয়েছে। 
জম্মু-কাশ্মীরে এমন ঘটনার উদাহরণ রয়েছে। ২০২০ সালে শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়েতে বান টোলপ্লাজার কাছে পুলিসের সঙ্গে গুলির লড়াই হয় চার জঙ্গির। চার জঙ্গিকেই  নিকেশ করে পুলিস। বান টোলপ্লাজা কিন্তু জঙ্গিদের টার্গেটে ছিল না। পুলিসের খানাতল্লাসি দেখে ঘাবড়ে গিয়ে তারা গুলি চালিয়েছিল। নাগরোটা সত্যিই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে যখন দুষ্কৃতীরা ধরা পড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ