নাগপুর: আওরঙ্গজেবের সমাধি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শম্ভাজিনগর থেকে সরাতে হবে। এই দাবি ঘিরে সোমবার সারাদিনই সরগরম ছিল মহারাষ্ট্র। রাতে নাগপুরে তা চরম আকার ধারণ করল। নাগপুর শহরের মহাল এলাকায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল। সেই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ায়। আর তার জেরে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়াল দুটি গোষ্ঠী। একের পর এক বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় একাধিক গাড়ি। বাদ যায়নি বাড়ি ও দোকানও। সংঘর্ষকারীদের ঠেকাতে গিয়ে জখম হন ১৫ জন পুলিসকর্মী। তাঁদের মধ্যে এক ডিএসপিও রয়েছেন। ৫ জন সাধারণ মানুষও আহত হয়েছেন। সংঘর্ষকারীদের হঠাতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয়। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা নাগপুরের সাংসদ নীতিন গাদকারি। তাঁরা দু’পক্ষকেই শান্ত হতে অনুরোধ করেছেন। ফের যাতে গুজব না ছড়ায় তার জন্য পদক্ষেপ করেছে সাইবার পুলিসও। পুরো এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিস।
ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের খুলদাবাদ থেকে মুঘল সম্রাটের সমাধি সরানোর দাবিতে প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। দাবি মানা না হলে বাবরি মসজিদের মতো পরিণতিরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপরই ওই সমাধিক্ষেত্রের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভিতরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এদিন বিকেলের পর থেকেই নাগপুরে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছিল। যার জেরে অতিরিক্ত পুলিসও মোতায়েন করা হয়। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। পুলিস সূত্রে খবর, চিটনিস পার্ক ও শুক্রওয়ারি তালাও রোড এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চলে। দুটি জেসিবি মেশিনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ২৫-৩০টি বাইক ও ৩-৪টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ বলেছেন, যেভাবে মহালে তাণ্ডব চলেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। পুলিসের উপর আক্রমণ হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাদকারি বলেন, ‘নাগপুর বরাবরই শান্তি বজায় রেখে এসেছে। সকল ভাইয়ের কাছে অনুরোধ করছি কোনও গুজবে কান দেবেন না। রাস্তায় বেরিয়ে আইন নিজের হাতে নেবেন না।’ যদিও এদিনের ঘটনার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছে বিরোধীরা। সমাধি বিতর্কে রাজ্যের শাসক শিবিরের সমর্থনকে আদতে অন্য ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল হিসেবেই দেখছে তারা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালের দাবি, রাজ্যের মন্ত্রীরা কয়েকদিন ধরে আওরঙ্গজেবের সমাধি ইস্যুতে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দিয়ে গিয়েছেন। তার ফলশ্রুতি সোমবারের ঘটনা। শিবসেনার উদ্ধব শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউতের প্রতিক্রিয়া, ‘ওই সমাধি আসলে মারাঠাদের অদম্য সাহসেরই কথা বলে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জানবে, কীভাবে মারাঠারা মুঘলদের সঙ্গে লড়াই করে স্বরাজ ছিনিয়ে এনেছিল।’