Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া: কমিশনের শুনানিতে আসা ভোটারের সংখ্যা কমছে জেলায়

কৃষ্ণনগর শহরের আমিনবাজার এলাকার প্রণব মিত্র(নাম পরিবর্তিত)। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নোটিশ এসেছে তাঁর নামে।

নদীয়া: কমিশনের শুনানিতে আসা ভোটারের সংখ্যা কমছে জেলায়
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরের আমিনবাজার এলাকার প্রণব মিত্র(নাম পরিবর্তিত)। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও নোটিশ এসেছে তাঁর নামে। নতুন বছরের শুরুতেই তাঁকে নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে হাজির দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও শুধু প্রণববাবু নন জেলাজুড়ে এমন বহু ভোটারই রয়েছেন, যাঁদের ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। অথচ তাঁকে নির্বাচন কমিশন অবৈধ ভোটার সন্দেহে নোটিশ ইস্যু করেছে। সৌজন্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি। যা নিয়ে জেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছিল। কারণ শুনানির নামে অহেতুক হেনস্তার মুখে পড়তে হতো তাঁদের। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে শেষবেলায় কমিশনের সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে। কারণ নতুন নির্দেশিকার জেরে শুনানিতে আসা ভোটারের সংখ্যা কিছুটা কমবে। নদীয়া জেলার প্রতি বিধানসভাতেই গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জনের নাম শুনানির তালিকা থেকে বাদ পড়বে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।‌ 

Advertisement

এসআইআর প্রথম পর্বের কাজ শেষের পর জানা যায় যে নদীয়া জেলায় মোট ২ লক্ষ ৮১ হাজার ভোটারকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পাওয়া যায়নি। সেই মতো নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ ইস্যু করার প্রক্রিয়া চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। তাতেই দেখা যায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার সত্ত্বেও ওই ভোটারের নামে নোটিশ ইস্যু হয়েছে। মূলত বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা গিয়েছিল। যা নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি আতঙ্কিতও হয়ে পড়েছিলেন অনেক ভোটার।
তবেই গত ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা শুনানিতে আসা ভোটারের সংখ্যা বেশি কিছুটা কমতে পারে বলেই‌ মনে করা হচ্ছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব ভোটার কেবল প্রযুক্তিগত কারণে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের শুনানিতে ডাকা হবে না। যদিও সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুনানির নোটিস তৈরি হয়ে থাকতে পারে, সেগুলি জারি না করে নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে রাখা থাকবে। জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা যাচাই করে ইআরও বা এইআরও মামলার নিষ্পত্তির করতে পারবেন। প্রয়োজনে বিএলও-দের মাঠে পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট ভোটারের সঙ্গে ছবি তুলে তা আপলোড করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নথি নিয়ে বিপাকে পড়ায় ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে বহু ভোটারকে। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার দিগনগর পঞ্চায়েতের বাজার এলাকাতেই একটি দোকানের সামনে বসেছিলেন দুর্জয় দেবনাথ(নাম পরিবর্তিত)। তিনি পেশায় চাষি। রবিবার সকালে চোখে মুখে উদ্বেগের ছাপ নিয়েই বাজারে ঘুরছিলেন তিনি। কারণ বাংলাদেশি সন্দেহে নোটিশ ইস্যু হয়েছে তাঁর নামে। তাই ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নথিপত্র জমা করে বৈধ নাগরিক তা প্রমাণ করার জন্য ডাক এসেছে। তিনি বাংলাদেশে থেকে ভারতে আসার পর, বিগত ২০ বছর ধরেই এদেশের নাগরিক হিসেবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। এবার ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্ক তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কারণ নথি নিয়েই চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড থাকলেও তা যে যথেষ্ট নয় সেটা বুঝে গিয়েছেন দুর্জয়বাবু। এখন মেয়ের কাস্ট সার্টিফিকেটই শেষ ভরসা। যদিও শুধু দুর্জয়বাবুর ক্ষেত্রে নয়, জেলার নো ম্যাপড অধিকাংশ ভোটারের কাস্ট সার্টিফিকেট বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। কিন্তু, শুধু দুর্জয়বাবু নয়, জেলার বহু ভোটারই নথি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কারণ সরকারিভাবে দেওয়া জমির পাট্টা গৃহিত হলেও জমির দলিল গৃহীত হচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ