অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় হদিশ মিলছে না প্রায় ৭০ হাজার ভোটারের। রবিবার বিকেল পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি করতে গিয়েই বিএলওদের হাতে এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমান ভোটার তালিকা মতো তাদের ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের দাবি, এখনই পরিসংখ্যানটিকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিএলওরা বাড়িতে গিয়ে ফর্ম দিয়ে এসেছেন। অ্যাপে সেগুলি আপলোড করছেন না। ফলে বাস্তবে হদিশ না পাওয়া ভোটারের সংখ্যাটা আরও কিছুটা কম হতে পারে। এদিকে, বিএলওরা জানিয়েছেন, অ্যাপের সমস্যার কারণে অনেকে ডেটা এন্ট্রি করতে পারছেন না। ফর্ম বিলির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। একশো শতাংশ ভোটারের মধ্যে ফর্ম বিলি করাই লক্ষ্য প্রশাসনের। সেক্ষেত্রে হদিশ না পাওয়া ভোটারের আত্মীয় কিংবা তার বাড়ির ঠিকানায় ফর্ম রেখে আসতে হবে। সেটা ধরলে এখনও পর্যন্ত ৯৯ শতাংশ ভোটার ইনিউমারেশন ফর্ম পেয়েছেন।
জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, ‘বিএলওদের বলা হয়েছে তাঁরা যেন দ্রুত ফর্ম বিলির কাজ শেষ করেন। সকলের কাছে ফর্ম পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি ফর্ম জমা নেওয়ার কাজও চলছে।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার ভোটারের নাম প্রাথমিকভাবে বাদ পড়তে পারে বলে প্রশাসন মনে করেছ। বুথে বুথে বিএলওরা ঘুরে এমনটাই তথ্য পেশ করেছে। তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত এবং ডুপ্লিকেট ভোটার রয়েছেন। আবার ফর্ম জমা দিতে অনিচ্ছুক ভোটারদেরকেও এই তালিকায় রেখেছে কমিশন। কমবেশি জেলাজুড়ে তিন হাজার মৃত ভোটারের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, গ্রামে অনেক ভোটারের ফর্ম আত্মীয়-পরিজনের হাতে দেওয়া হলেও তাঁদের ‘নিখোঁজ ভোটার’ হিসেবেই ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে বহু মহিলা বিয়ের পরও বাপের বাড়ির ঠিকানায় ভোটার তালিকায় নাম থেকে গিয়েছে। তাঁদের স্থানান্তরিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অনেক পরিবার অন্যত্র থাকায় গ্রামীণ ঠিকানায় ফর্ম বিলি করতেও সমস্যায় পড়ছেন বিএলওরা।
গত দু’সপ্তাহ ধরে বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি করেছেন বিএলওরা। বর্তমানে ফর্ম বিলির কাজ শেষ পর্যায়ে। তাতে দেখা গিয়েছে, তিনবার বাড়ি গিয়েও জেলাজুড়ে বহু ভোটারের হদিশ পাওয়া যায়নি। রবিবার বিকেল পর্যন্ত নদীয়া জেলায় সংখ্যাটা প্রায় ৭০ হাজার। জেলার প্রতি বিধানসভা তেই গড়ে তিন হাজার থেকে তিন হাজার পাঁচশো ভোটারের হদিশ মেলেনি। এক্ষেত্রে বিএলওদের আগেই বলা হয়েছিল, ঠিকানায় ভোটারের খোঁজ না মিললে বাড়িতে ফর্ম রেখে আসতে হবে। পরে কমিশন নিয়ম বদলে জানায়, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার ঠিকানায় তিনবার গিয়েও ভোটারকে না পেলে বাড়িতে নোটিশ সেঁটে তার ছবি তুলতে হবে। এরপর সেই নোটিশের তথ্য অ্যাপে আপলোড করলেই ধরে নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুর বিধানসভায় ১৫০০, তেহট্ট বিধানসভায় ২৫০০, পলাশিপাড়া বিধানসভায় ৩৫০০, চাপড়া বিধানসভায় ৯০০, শান্তিপুর বিধানসভায় ১০০০, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভায় ৪০০০, চাকদহ বিধানসভায় ৩০০০ ভোটার, নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ২৯০০ ভোটার, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় ৩০০০ ভোটার, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় ২৫০০ ভোটার, কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় ২৮০০ ভোটার এবং কল্যাণী বিধানসভায় ২২০০ ভোটারকে ফর্ম দেওয়া বাকি রয়েছে।