নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় এসেই রাজ্য সরকারি দপ্তরে শূন্যপদের সংখ্যা নির্ধারণের কাজে নেমেছিল নবান্ন। সেই সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ। অন্তত ১ লক্ষ ৫১ হাজার পদ চলতি অর্থবর্ষেই (আগামী ৬ মাসে) পূরণের প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নিল নবান্ন। সূত্রের খবর, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই দেড় লক্ষ শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—রাজ্য পুলিশে ১২ হাজার এবং কলকাতা পুলিশের ৪ হাজার। তালিকায় রয়েছে আরও একাধিক দপ্তরে ৫ থেকে ৭ হাজার শূন্যপদ। শূন্যপদগুলি পূরণের দায়িত্ব পাবে পিএসসি এবং এসএসসি।
এদিনই রেড রোডে দমকল দপ্তরের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানান, দমকলের বিভিন্ন স্থায়ী পদে আপাতত ১৪০০ জনকে নিয়োগ করা হবে। পরে নেওয়া হবে আরও আড়াই হাজার। নিয়োগ হবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে। তৃণমূল জমানায় দমকলে ছয়-সাত হাজার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে এদিন সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দমকলের স্থায়ী ফিল্ড কর্মীদের বছরে ২৬ দিনের বিশেষ ভাতা প্রদানেরও ঘোষণা করেন তিনি।
মন্ত্রিসভার বুধবারের বৈঠকে মাদ্রাসা ইস্যুও ওঠে। মাদ্রাসাগুলিতে ‘সঠিকভাবে’ পঠনপাঠন চালানো নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, আরও ২৫০টির মতো প্রায় পড়ুয়াশূন্য এবং সরকার স্বীকৃত অথচ পরিকাঠামোহীন ও বেসরকারি মাদ্রাসা আগামী জানুয়ারি থেকে না চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। এই মাদ্রাসার হাতেগোনা পড়ুয়ার কথা মাথায় রেখেই শিক্ষাবর্ষের মাঝে বন্ধ না-করে, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ডিসেম্বরের শেষে বন্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ১০০টি মাদ্রাসাকে নানা কারণে শোকজ করেছিল রাজ্য। ফলে নজরে রয়েছে এই মাদ্রাসাগুলিও। সেগুলি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসনিক মহল। প্রসঙ্গত, আগেই খারিজি সহ ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের অর্ডার দিয়েছে নবান্ন।
এদিনের বৈঠকে রাজ্যে আয়ুশ দপ্তর তৈরিরও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আবার এসসি/এসটি পড়ুয়াদের হস্টেল খরচ বাবদ বরাদ্দ ১৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৩০০ টাকার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে তৈরি হবে বাবাসাহেব আম্বেদকরের নামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। তার জন্য বিধানসভায় বিল আনার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নিমতৌড়িতে নয়া সংশোধনাগার নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে রাজ্যের তরফে বাংলাজুড়ে যে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সেই বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোকপাত করেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা ছাড়াও শিলিগুড়ি, বহরমপুর, দুর্গাপুর, দীঘা, বিষ্ণুপুর, মালদহ এবং নন্দীগ্রামেও অনুষ্ঠান হবে। মহালয়ার দিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘মা আসছেন’ অনুষ্ঠান। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। এই অনুষ্ঠান এবং দশমী ছাড়াও, অন্যান্য দিনেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এদিন নবান্ন সভাঘরেও একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন শুভেন্দু। শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরে যোগাসন কক্ষ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব উঠে এসেছে—বর্তমান বসবাসের জমিতেই আদিবাসীদের পাট্টা প্রদানের। তাঁদের কেন্দ্র এবং রাজ্যের প্রকল্পের সুবিধা প্রদান সুনিশ্চিত করতেই এই প্রস্তাব।