Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালনা শহরে একের পর এক পুকুর বোজানো নিয়ে রিপোর্ট তলব নবান্নের

পুরসভার নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালনা শহরে পুকুর বোজানো চলছে। রাতারাতি পরিবর্তন করা হচ্ছে পুকুরের চরিত্র

কালনা শহরে একের পর এক পুকুর বোজানো নিয়ে রিপোর্ট তলব নবান্নের
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: পুরসভার নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালনা শহরে পুকুর বোজানো চলছে। রাতারাতি পরিবর্তন করা হচ্ছে পুকুরের চরিত্র। তারপর সেখানে তৈরি হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বাড়ি। নষ্ট হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশের ভারসাম্য। তবে এবার নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। বিষয়টি নিয়ে খোদ নবান্ন থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে কালনা পুরসভার কাছে। সেই রিপোর্ট পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।পুরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত বলেন, শহরে কত পুকুর বোজানো হয়েছে তার হিসেবে চেয়েছিল নবান্ন। আমরা সেই রিপোর্ট পাঠিয়েছি। বাম আমল থেকেই কালনা শহরে পুকুর বোঝানো হচ্ছে। আমরা ২০১০ সালে পুরসভায় ক্ষমতায় এসেছি। তারপরেও পুকুর বোজানো হয়েছে। এখন একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত কৌশলে পুকুর বোজায় প্রোমোটাররা। জলাশয়ে প্রথমে নোংরা, আবর্জনা ফেলা শুরু হয়। দিনের পর দিন আবর্জনা ফেলতে ফেলতে পুকুর ভরাট হয়ে যায় একসময়ে। তারপর সেখানে তৈরি হয় বাড়ি, দোকানঘর। পুরসভা নোটিস দিয়েও বাগে আনতে পারছে না দোষীদের। শহরের অনেক পুকুর বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিবেশ কর্মীদের কাছে এটা অত্যন্ত উদ্বেগের। বার বার সরব হচ্ছেন বাসিন্দারা। অনেক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধেও পুকুর বুজিয়ে বাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠছে শহরে। 
অভিযোগ খোদ চেয়ারম্যানেরই। তিনি বলেন, আরএস পর্চাতে পুকুর বলে উল্ল্যেখ রয়েছে। অথচ এলআর পর্চায় সেই পুকুরকে বাস্তু বলে উল্লেখ রয়েছে। আমরাও হতবাক হচ্ছি। 
কালনা মন্দিরের শহর। প্রতিদিন প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসেন শহরে। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের একাধিক ওয়ার্ডের রাস্তা জলমগ্ন হয়ে যায়। নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুরকর্মীদের একাংশের দাবি, বৃষ্টির জমা জল এতদিন আশেপাশের পুকুরে জমা হতো। কিন্তু পুকুর বুজিয়ে ফেলায় জল নিষ্কাশন হচ্ছে না। তাছাড়া এসটিকেকে রোড উঁচু করা হয়েছে। তাই সেই রাস্তা বাঁধের মতো জল আটকে দিচ্ছে। 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ২৫টি পুকুর বুজিয়ে ফেলার অভিযোগ এসেছে। সব ক্ষেত্রেই পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও তা বন্ধ হয়নি। একসময়ে কালনা শহরে তিনশর বেশি পুকুর ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা দু’ শয় নেমে এসেছে। এসব অভিযোগ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর অবধি পৌঁছেছে। তাই শহরে পুকুর ভরাট নিয়ে কড়া তদন্ত করতে চলেছে নবান্ন।এক পুরকর্মী জানান, অতীতে পুরসভাতে পুকুরের নথি বদলানোর সময়ে নাকি সাদা কালি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটা শহরের এক প্রভাবশালীর সৌজন্যে হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই সাদা কালি ফুটে আসল সত্য প্রকাশ হয়েছে। সেই রিপোর্টও নবান্নে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। 
এদিকে বাম আমল থেকে পুকুর ভররে অভিযোগ উঠলেও সেই দাবিকে নস্যাৎ করেছে সিপিএম। শহরের এরিয়া কমিটির সদস্য নিরব খাঁ বলেন, নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে এখন শাসকদল বামেদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছে।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ