নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত সরকার রথযাত্রাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। এমনটাই দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সোমবার এ প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এতদিন রথযাত্রায় কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই সরকার তার দায়িত্ব শেষ করত।’ সেই জায়গায় তাঁর সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা’ নীতিকে সামনে রেখে উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এদিন নবান্ন সভাঘরে ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা মাথায় রেখেই তাঁর সরকার এবার রথযাত্রার আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তিনি স্বীকার করে নেন, প্রথম বছর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটির তালিকা তৈরিতে কিছু ত্রুটি থেকে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে জেলাশাসক ও তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন জানালে আগামী বছর বিস্তৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলাস্থলে সরকারি সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা, তথ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া হবে। এদিন যে সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়, তার একটা বড়ো অংশ যেন পুরানো রথগুলির সংস্কার, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়, সেই আবেদনও রেখেছেন তিনি। তিনি আরও জানান, কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকার ‘কর্পাস ফান্ড’ দেওয়া হবে। আগামী ১৬ জুলাই কলকাতায় ইসকনের রথযাত্রায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। আজ তিনি তারকেশ্বর যাবেন শ্রাবণী মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে। শ্রাবণ মাসজুড়ে শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর সরকারি সেবা শিবির করা হবে। একই ব্যবস্থা করা হবে জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং আলিপুরদুয়ারের জয়ন্তী এলাকার জন্যও। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।