সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: চৈতন্যভূমি নবদ্বীপে টোটোর দৌরাত্ম্য অব্যাহত। একশ্রেণির টোটো চালকের ‘বেয়াদপি’তে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক টোটো চালকই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অত্যন্ত বেশি টাকা নিচ্ছেন। অনেকে আবার ঠাসাঠাসি করে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি যাত্রী তুলছেন। অনেক চালক আবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, টোটো চালকদের এহেন বেয়াদপিতে এখনই রাশ না টানলে অচিরেই মানবপ্রেমের ভূমি নবদ্বীপ তার গরিমা হারাবে। সেইসঙ্গে অর্থনীতিতেও ধাক্কা লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। উদ্বিগ্ন মঠ-মন্দির কর্তৃপক্ষও।
চৈতন্যধাম নবদ্বীপের রুজিরুটির অনেকটাই নির্ভর করে পর্যটন ব্যবসার উপর। বছরের প্রতিটি সময় এখানে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। বিভিন্ন মঠ-মন্দির কিংবা দর্শনীয় জায়গায় যেতে টোটো ছাড়া গতি নেই। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে টোটো চালকরা। তার উপর পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েত এলাকার কিছু টোটোও শহরে ঢুকে পড়ে সমস্যা বাড়াচ্ছে। বাড়ছে যানজট।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ পুরসভা এলাকায় প্রায় ২৫০০ টোটো চলে। আবার সংলগ্ন মহিশুরা, বাবলারি, চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর, মাজদিয়া-পানশিলা, লাগোয়া পূর্ব বর্ধমানের শ্রীরামপুর, নাদনঘাট, হেমায়েতপুর থেকেও এক ঝাঁক টোটো নবদ্বীপে চলে আসে। সব মিলিয়ে শহরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার টোটো চলে। এমনিতেই শহরের রাস্তাঘাট সংকীর্ণ। তার উপর টোটোর এই দৌরাত্ম্যে প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা পথচারীদের।
ব্যাদরাপাড়ার বাসিন্দা তারক মোদক বলেন, টোটোর দাপটে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাস্তায় বেরিয়ে ভয় লাগে, সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারব তো? প্রতিবাদ জানাতে গেলে একদল টোটো চালক মারমুখী হয়ে ওঠে। অনেক চালক আবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গালিগালাজ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েত এলাকার বহু টোটো চালক একেবারে দুপুরের খাবার নিয়ে শহরে চলে আসেন। সকাল-সন্ধ্যা টোটো চালিয়ে তাঁরা আবার ফিরে যান। অভিযোগ, তাঁদের দৌরাত্ম্যে নবদ্বীপের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলা রোড, হরিসভাপাড়া রোড, বড়ালঘাট, মালঞ্চপাড়া, ঢপওয়ালির মোড় দিয়ে চলাচল করা যায় না। নবদ্বীপ আইএনটিটিইউসি সভাপতি ভানু সাহা বলেন, আমাদের ইউনিয়নের সঙ্গে প্রায় ৮৫০ টোটো চালক যুক্ত। চাকরির অভাবে পেটের টানে অনেকেই টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন। শহরে প্রায় ২৫০০ টোটো চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে প্রায় ৪৫০০ টোটো চলে। যানজটের সমাধানে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে। তবে পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। শ্রমিক সংগঠন সিটুর রাজ্য কমিটির সদস্য সৌমেন অধিকারী বলেন, কেন্দ্রের নীতির কারণে তাঁত, বিড়ি, কাঁসা শিল্প প্রায় অবলুপ্ত। কাজ নেই। তাই টোটোর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, টোটো চালিয়ে বহু মানুষ সংসার চালান। তবে, পর্যটকদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণই কাম্য। টোটো চালকদের মাথায় রাখতে হবে, পর্যটকরা আমাদের অতিথি।
নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, আমরা ‘নো এন্ট্রি সিস্টেম’ চালু করার চেষ্টা করছি। অনেকেই পেটের টানে টোটো চালাচ্ছেন। সহানুভূতির সঙ্গে সমস্যা মেটানো হবে। ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শীঘ্রই ভাড়ার তালিকা ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করব।