সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দুর্গাপুজোর বিসর্জন শেষ হয়েছে দু’সপ্তাহ আগে। যদিও নবদ্বীপের ভাগীরথীতে ‘দূষণমুক্ত বিসর্জন’ হয়। বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেন দিয়ে প্রতিমার বাঁশের কাঠামো তুলে ফেলা হয়। এরপরও বেশকিছু পুজো উদ্যোক্তা বা বারোয়ারি পরবর্তীকালে প্রতিমা নিরঞ্জন করায় এখনও বিসর্জন ঘাটগুলিতে কাঠামো পড়ে আছে। এদিকে, দোরগোড়ায় নবদ্বীপের ঐতিহ্যপূর্ণ রাস উৎসব। পুজো শেষে সেই প্রতিমা বিসর্জনের পালা। তাই বিসর্জন ঘাটগুলি আগে থেকেই সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেছে নবদ্বীপ পুরসভা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরকর্মীরা পুরসভার নির্ধারিত বিসর্জন ঘাটগুলি পরিষ্কার করতে নামেন। এদিন পীরতলা খাল, ফাঁসিতলা ঘাট, সরকারপাড়া, দেয়ারাপাড়া ঘাটগুলি পরিষ্কার করতে দেখা যায়। বিসর্জন ঘাটের কাছে জমে থাকা পলি ও নোংরা পরিষ্কার এবং নদীপাড়ে পড়ে থাকা দুর্গাপ্রতিমার কাঠামো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাঁসিতলা ঘাট ও পীরতলা খালে গাড়ি সহ প্রতিমা বিসর্জনের সবরকম সুব্যবস্থা রয়েছে। বিসর্জনের পর নদী থেকে সহজেই যাতে গাড়ি ওঠানো যায়, সেই ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া, দেয়ারাপাড়া ঘাট ও সরকার পাড়ার পুকুর পরিষ্কার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ফাঁসিতলা ও পীরতলা খালে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হয়ে থাকে।
পুরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে ঘাটগুলি পরিষ্কারের কাজ করা হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষের মুখে। ফাঁসিতলা ও পীরতলা খালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। পুজো কমিটির কর্মকর্তারা যদি নির্ধারিত সময়ে তাঁদের রাসের প্রতিমা বিসর্জন দেন, তবে এবার কোনও সমস্যাই হবে না। নবদ্বীপের বেশকিছু ছোট ডোবা বা জলাশয়েও প্রতিমা বিসর্জন হয়। তবে, মূলত ফাঁসিতলা ঘাট ও পীরতলা খাল এই দুই জায়গায় বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমার কাঠামো জল থেকে তুলে ফেলতে ক্রেনের ব্যবস্থা থাকে। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, গঙ্গার জল সহ বিভিন্ন বিসর্জনের ঘাটগুলিতে দূষণ রুখতে পুরসভা সদা সতর্ক। সেকারণে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের সময় সব ঘাটেই সমস্ত রকম সহায়ক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পুজোয় ব্যবহৃত ফুল-বেলপাতা, কলা গাছ সহ বিভিন্ন উপকরণ ফেলতে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এছাড়া, অনেক ঘাটে দুর্গা প্রতিমা দেরীতে বিসর্জন হয়। এখন সেই ঘাটগুলি পরিষ্কার করা হচ্ছে। সামনেই রাস উৎসব। এইসব প্রতিমা বিভিন্ন ঘাটে নিরঞ্জন করা হবে। সেবিষয়ে পুরসভা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ নভেম্বর, বুধবার নবদ্বীপে রাস উৎসব। পরদিন ৬ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার চিরাচরিত প্রথা মেনে প্রতিমার শোভাযাত্রা ‘আড়ং’ অনুষ্ঠিত হবে। তারপরের দিন ৭ নভেম্বর, শুক্রবার সকাল থেকে এই ঘাটগুলিতে প্রতিমার বিসর্জন পর্ব চলে। প্রতিমার সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিসর্জন দিতে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়।