সমীর সাহা, নবদ্বীপ: শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ গ্রহণ করল নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতি। এবার নবদ্বীপ স্বরূপগঞ্জ ঘাট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ভাগীরথী তীরবর্তী মনোরম পরিবেশে পঞ্চায়েত সমিতি তার নিজস্ব জায়গায় ১০টি অত্যাধুনিক স্টল তৈরি করছে। এমনকী এই স্টলগুলির ওপরে তৈরি হবে দু’টি বড় বড় হোটেল কাম রেস্তরাঁ ও কফি হাউস। ৬০ ফুট লম্বা এবং ৩০ ফুট চওড়া জায়গায় তৈরি হবে দোকানঘর, হোটেল ও রেস্তরাঁ। সম্পূর্ণ খোলা মেলা পরিবেশে ফোল্ডিং আচ্ছাদন যুক্ত আধুনিক উন্নত মানের হোটেল ও রেস্তরাঁ। এর জন্যে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫ লক্ষ টাকা। মাস দুয়েকের মধ্যেই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই পাশাপাশি নবদ্বীপ বিডিও অফিসের সামনে নতুন করে আরও ২০টি দোকান ঘর তৈরির কাজ চলছে। আগামী দিনে আবেদনের ভিত্তিতে বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই সব দোকান ঘর এবং হোটেল-রেস্তরাঁ। উল্লেখ্য, এর আগেও বিডিও অফিসের সামনে ৩৭টি দোকান ঘর তৈরি করে আবেদনের ভিত্তিতে বেকার যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে ঘরগুলি তুলে দেওয়া হবে। এর জন্য খুব সামান্য ভাড়াই দিতে হবে। যখন ঘরগুলি দেওয়া হবে, সেই সময় এককালীন কিছু অর্থও তাদের জমা রাখতে হবে। বর্তমানে পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে বিডিও অফিসের সামনে তৈরি হওয়া ৩৭টি দোকান ঘর তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওইসব দোকান নিয়ে কেউ খাবারের দোকান, কেউ চায়ের দোকান, কেউ বা জেরক্সের দোকান তৈরি করেছেন।
পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, নবদ্বীপ ঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির জায়গায় দোকান ঘর এবং দু’টি হোটেল ও রেস্তরাঁ তৈরি করা হচ্ছে। দ্বিতলবিশিষ্ট এই হোটেল বা রেস্তরাঁয় বসে গঙ্গার মুক্ত বাতাস পাবেন ক্রেতারা। পাশাপাশি এই জায়গায় বসে গঙ্গার অপরূপ সৌন্দর্যও তাঁরা উপলব্ধি করতে পারবেন। এখানে মাথার উপর কোনও কংক্রিটের ছাদ থাকবে না। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোল্ডিং ছাদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখন ডিপিআর তৈরি হচ্ছে। তারপর অ্যাপ্রুভাল পাওয়ার পর টেন্ডার হবে। এরপর ওয়ার্ক অর্ডার দিলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। আশা করা যাচ্ছে, নিয়ম অনুযায়ী দু’মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করা যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মানুষকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। ঘরে ঘরে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী রয়েছেন। চেষ্টা করা হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে তাঁরা যাতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।