সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ ছ’বছর নেই কোনও অস্থি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। হাত-পা ভেঙে কেউ হাসপাতালে এলে তাকে ছুটতে হয় কৃষ্ণনগর বা অন্যত্র। পাশাপাশি ইউএসজি মেশিন থাকলেও তা করানোর জন্য কোনও বিশেষজ্ঞ রেডিওলজিস্ট নেই। একজন সোনোলজিস্ট আছেন। তিনিই সপ্তাহে তিনদিন আল্ট্রাসনোগ্রাফি করছেন। ফলে সঠিক পরিষেবা না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সমস্যার কথা মেনে নিয়ে হাসপাতাল সুপার অনঘ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিন নেই কোনও অর্থপেডিক চিকিৎসক, নেই রেডিওলজিস্ট। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। তবে হাসপাতালে একজন সোনোলজিস্ট আছেন। তাঁকে দিয়ে ইউএসজি করানো হচ্ছে। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সোনোলজিস্ট কোর্স করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে এই হাসপাতালে কোনও অর্থোপেডিক চিকিৎসক নেই। তারজন্য রোগীদের কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল বা অন্য কোনও মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করতে হচ্ছে। সনোলজিস্ট সপ্তাহে তিনদিন ইউএসজি করেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা গর্ভবতী মায়েদের ইউএসজি করেন। তেমনই সোমবার ও শুক্রবার দু’দিন গর্ভবতী মায়েদের ইউএসজি হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে যেখানে ৬৫ জন নার্সিং স্টাফ থাকার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র ৪২জন। গ্রুপ-ডি স্টাফ ৫৬ জনের জায়গায় মাত্র ২৭ জন রয়েছেন। পর্যাপ্ত সাফাই কর্মীও নেই। ১৪ জন সাফাই কর্মীর মধ্যেও চারজন সরকারি আর বাকি ১০ জন অস্থায়ী কর্মী। ১২৫টি শয্যাবিশিষ্ট নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৭৫ থেকে ১৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এছাড়া আউটডোরে ভিড় করেন নবদ্বীপ ব্লকের বহু মানুষ। শুধু নবদ্বীপ নয়, লাগোয়া পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভরসা এই হাসপাতাল।