সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আগামী ৫ নভেম্বর, বুধবার নবদ্বীপের ঐতিহ্যপূর্ণ রাস উৎসব। লক্ষাধিক মানুষের ভিড়ের আশা করা হচ্ছে। যাত্রী পরিষেবার কথা মাথায় রেখে নবদ্বীপ, মায়াপুর, স্বরূপগঞ্জ ও স্বরূপগঞ্জ রেলবাজার ঘাট ফেরিঘাটগুলি দিয়ে অতিরিক্ত যন্ত্রচালিত নৌকা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নবদ্বীপ ঘাট ও মায়াপুরের মধ্যে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।
ফেরিঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে, রাসের আগের দিন ৪ নভেম্বর থেকে পুজোর পরের দিন ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চারটি ফেরিঘাট দিয়ে অতিরিক্ত ছ’টি যন্ত্রচালিত নৌকা চলবে। এছাড়া, নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে তিনটি অতিরিক্ত লঞ্চ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবদ্বীপ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। রাস পূর্ণিমার দিন ও তার পরের দিন সারারাত নৌকা চলবে। অন্যান্য দিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই পরিষেবা মিলবে। ওই দু’দিন বাদে অন্যান্য দিনগুলিতে নির্দিষ্ট সময়ের পরেও প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকা পারাপার করা যাবে। সেক্ষেত্রে নবদ্বীপ থেকে স্বরূপগঞ্জ ঘাটে এক থেকে সাতজন যাত্রী নিয়ে রিজার্ভ ৭০টাকা করে এবং মায়াপুরের ক্ষেত্রে ২১০টাকা দিতে হবে। নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে তিনটি লঞ্চ চলাচল করে। রাস উপলক্ষ্যে আরও তিনটি লঞ্চ বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি ঘাটে জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন।
নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, প্রতিদিন এই ফেরিঘাটগুলি দিয়ে ৩০-৪০ হাজার মানুষ পারাপার করে। তবে, রাসের বেশ কিছুদিন আগে থেকে পুণ্যার্থী-পর্যটকদের আনাগোনা অনেকটাই বেড়ে যায়। রাস ও আড়ংয়ের দিনগুলিতে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়। যে কারণে আমরা যাত্রী পরিষেবার দিকে বিশেষ নজর দিই। প্রতিটি ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও থাকছে। জেটি ছাড়া প্রতিটি ফেরিঘাটে অস্থায়ী বাঁশের মাচা দিয়ে যাতায়াতের অতিরিক্ত পথ তৈরি করা হয়েছে। ঘাটগুলি দিয়ে অতিরিক্ত ছ’টি নৌকা এবং নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে আরও তিনটি লঞ্চ চালানো হবে। প্রয়োজনে নৌকার সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। চারটি ঘাটে ফেরিঘাটের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা যাত্রী নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখবেন। এছাড়া, প্রতিটি ঘাটেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। জলসাথী, বিপর্যয় মোকাবিলা দল থাকবে। যাত্রী নিরাপত্তার জন্য আমাদের নৌকাগুলিতে কিছু বয়া আছে। জেলা পরিষদ থেকে আরও কিছু বয়া দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ফেরিঘাটগুলিতে ১৫৬জন কর্মী আছেন। নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে লঞ্চ ভাড়া ১০টাকা, আর নৌকা ভাড়া ৫টাকা। অন্যান্য ঘাটগুলিতে নৌকা ভাড়া মাথাপিছু তিন টাকা।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যাতে অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা হয় তা দেখতে হবে। অতিরিক্ত নৌকা ও ভেসেলের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘাটে পর্যাপ্ত পুলিশ, জলসাথী, বিপর্যয় মোকাবিলার কর্মীরা থাকবেন। নৌকায় লাইফ জ্যাকেট, আলোর ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। সতর্কীকরণ মাইকিং করতেও বলা হয়েছে।