Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ন্যাকের পরিদর্শনে ব্রাত্য বাংলা বিভাগ, বরাদ্দে আশঙ্কার মেঘ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড়

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাংলা বিভাগ পরিদর্শনই করল না ন্যাকের প্রতিনিধি দল। এই বিভাগ তাঁরা নিছকই এড়িয়ে গেলেন, নাকি তাঁরা যাতে প্রবেশ না করে তারজন্য আগাম রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল? এই প্রশ্নে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ন্যাকের পরিদর্শনে ব্রাত্য বাংলা বিভাগ, বরাদ্দে আশঙ্কার মেঘ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড়
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাংলা বিভাগ পরিদর্শনই করল না ন্যাকের প্রতিনিধি দল। এই বিভাগ তাঁরা নিছকই এড়িয়ে গেলেন, নাকি তাঁরা যাতে প্রবেশ না করে তারজন্য আগাম রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল? এই প্রশ্নে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমন ঘটনায় তাজ্জব শিক্ষাদপ্তরও। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ জুন ওই বিভাগ পরিদর্শন করার কথা ছিল। সেই মতো প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আচমকাই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ একসময় ন্যাকের বিচারে উচ্চতর বিদ্যাচর্চা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। তার সুফল বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছিল। কিন্তু এবার সেটা না হওয়ায় অনেকেই আক্ষেপ করেছেন। 

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি শঙ্করকুমার নাথ বলেন, ন্যাকের প্রতিনিধিরা কোন বিভাগ পরিদর্শন করবেন, সেটা তাঁরাই ঠিক করেন। ন্যাকের প্রতিনিধি দলে ছ’জন ছিলেন। তাঁরা অন্য রাজ্য থেকে এসেছেন। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কেউ ছিলেন না। কেউ বাঙালি ছিলেন না। সেই কারণেই হয়তো তাঁরা উৎসাহ দেখাননি। আমরা বলেছিলাম, আমাদের বাংলা বড় বিভাগ। সেই কারণে তাঁদের বিভাগটি দেখার জন্য বলেছিলাম। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি বিভাগ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে ন্যাকের সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু বাংলা বঞ্চিত থেকে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যা঩কের প্রতিনিধি দল আসছে অথচ বাংলা বিভাগ পরিদর্শন হচ্ছে না, এটা ভাবাই যায় না। ন্যাকের মূল্যায়নের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। বরাদ্দও পাওয়া যায়। সেসব থেকে বাংলা বঞ্চিত হতে পারে। ন্যাকের প্রতিনিধি দল আসার আগে প্রতিটি বিভাগ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। কোন বিভাগ কোথায় পিছিয়ে রয়েছে সেটা দেখার পর আলোচনা করা হয়। দুর্বল বিষয়গুলিকে ঠিক করার জন্য সমস্ত রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বাংলা বিভাগেও সেরকম কিছু দুর্বলতা ছিল কি না, সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। 
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, কিছু দুর্বলতা থাকলেও ন্যাকের পরিদর্শন হবে বলে আশা করেছিলাম। সেই মতো যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও কী কারণে প্রতিনিধি দল বিভাগে ঢুকল না সেটা স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি বিভাগের মধ্যে বাংলার গুরুত্ব অনেক বেশি। 
এক প্রাক্তনী আক্ষেপ করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ আমাদের কাছে গর্বের। আগে স্বীকৃতিও আদায় করেছে আমাদের বাংলা বিভাগ। খারাপ বা ভালো যাই হোক না কেন ন্যাকের পরিদর্শন হওয়া দরকার ছিল। কোথাও কোনও দুর্বলতা থাকলে তা নিয়ে আলোচনা করা যেত। দুর্বলতা দূরীকরণের পথও ছিল। ন্যাকের পরিদর্শনের খবর বিশ্ববিদ্যালয় অনেক আগেই পেয়েছিল। ঩সেই মতো যা যা করার দরকার সবটাই হয়েছে। ন্যাক আসার খবরে অনেকেই খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলা বিভাগে তাঁরা না ঢোকায় অনেকেই তাঁদের যাওয়ার পর আক্ষেপ করছেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ