নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বুধবার সকালে ময়না থানার নারিকেলদাহা গ্রামে এক স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম সুজিত মান্না। তিনি নন্দকুমার ব্লকের মল্লিকচক অমরস্মৃতি আদর্শ বিদ্যাপীঠের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। এদিন সকালে বাড়ি থেকে ৫০ মিটার দূরে একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ওই শিক্ষকের জিম্মা থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই শিক্ষকের কাছে থাকা মোবাইলে সিমকার্ড ছিল না। পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ওই ঘটনার তদন্ত করছি। ওই শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। সুজিতবাবু মল্লিকচক অমরস্মৃতি আদর্শ বিদ্যাপীঠের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী কল্যাণী মান্না ময়না বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তমলুক শহরে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে পদুমবসানে ওই শিক্ষকের আরও একটি বাড়ি আছে। ওই শিক্ষক দম্পতি তমলুক শহরের বাড়িতেই থাকতেন। মাঝেমধ্যে ময়নায় গ্রামের বাড়িতে যেতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে অনির্বাণ মান্না গত বছর এসএসকেএম হাসপাতালে ডাক্তারিতে কোর্সে ভর্তি হন। মঙ্গলবার ওই শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী দু’জনেই তমলুক শহরের বাড়িতে ছিলেন।
ওইদিন সন্ধ্যা নাগাদ সুজিতবাবু ময়নায় গ্রামের বাড়িতে যান। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। গাছের ডালে সঙ্গে প্যান্টের বেল্ট বাঁধা ছিল। সেই বেল্টের সঙ্গে মাফলার বেঁধে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ ঝুলছিল। পুলিশ দেহ নামানোর পর তাঁর কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে সেই নোটের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না পুলিশ। মঙ্গলবার মল্লিকচক অমরস্মৃতি বিদ্যাপীঠে মাধ্যমিক পরীক্ষার ইনভিজিলেটরের দায়িত্ব সামলেছেন সুজিতবাবু। বুধবার মাধ্যমিকের শেষ পরীক্ষা ছিল। এদিনই সকালে সুজিতবাবুর মৃত্যুর খবর স্কুলে আসে। সাতদিন আগে সুজিতবাবু আচমকা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে ওইদিন রাতে উদ্ধার করেন। ঘনিষ্ঠরা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সুজিতবাবু কোনও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার সকালে সুজিতবাবুর স্ত্রী খবর পেয়ে ময়নায় যান। তিনি সংবাদ মাধ্যমে কোনও কথা বলতে চাননি। তমলুক পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার গৌতম পাল মৃত শিক্ষকের ছেলেকে আনতে কলকাতায় যান। গৌতমবাবু বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে সুজিতবাবুর দাদা-বউদি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। ওই শিক্ষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পিছনে কী রহস্য আছে সেটা পুলিশি তদন্তে নিশ্চয়ই উঠে আসবে। মৃত ওই শিক্ষকের ভাইরাভাই পেশায় শিক্ষক নিশিকান্ত পাড়ই বলেন, এক সপ্তাহ আগে তমলুকের বাড়িতে থেকেছি। এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। মল্লিকচক অমরস্মৃতি আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক তারাপদ শীট বলেন, সুজিতবাবু ছাত্রদরদী শিক্ষক ছিলেন।