Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুবেশা তরুণীর মোবাইলের সূত্র ধরেই নার্সিংহোমে নজর, পাক চর গ্রেপ্তারের পর স্ক্যানারে সেই রহস্যময়ী

এক সুবেশা রহস্যময়ী যুবতীর সূত্র ধরেই পাকিস্তানের গুপ্তচরের কাছে পৌঁছে যায় গোয়েন্দারা। রাকেশ গুপ্তা নামে ওই পাক চর মেমারিতে ভাড়া বাড়িতে থাকত।

সুবেশা তরুণীর মোবাইলের সূত্র ধরেই নার্সিংহোমে নজর, পাক চর গ্রেপ্তারের পর স্ক্যানারে সেই রহস্যময়ী
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এক সুবেশা রহস্যময়ী যুবতীর সূত্র ধরেই পাকিস্তানের গুপ্তচরের কাছে পৌঁছে যায় গোয়েন্দারা। রাকেশ গুপ্তা নামে ওই পাক চর মেমারিতে ভাড়া বাড়িতে থাকত। মোবাইলের মাধ্যমে তার উপর গোয়েন্দারা নজরদারি চালাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন তার মোবাইল সুইচড অফ হয়ে যাওয়ায় আধিকারিকদের ঘুম ছুটে যায়। ‘পাখি উড়ে গেল না তো?’ এই প্রশ্নই তাঁদের মধ্যে দানা বাঁধতে থাকে। সেই সময় এক আধিকারিকের  মাথায় আসে ওই যুবতীর কথা। রাকেশ দিনে প্রায় দেড় থেকে দু’ঘণ্টা তার সঙ্গে ফোনে কথা বলত। রাকেশ কোথায় কী অবস্থায় রয়েছে, সেটা সে জানবে। এই চিন্তা করে তার মোবাইলে ওত পাতা শুরু হয়। তাতেই সাফল্য মেলে। দেখা যায়, ওই যুবতীর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন বর্ধমান থানার কাছে একটি নার্সিংহোমে পাওয়া যাচ্ছে। গোয়েন্দারা তৎক্ষণাৎ ওই নার্সিংহোমে পৌঁছে যায়। ‘শিকার’ সেই সময়ই নার্সিংহোমের বেডেই শুয়েছিল। তাকে দেখে স্বস্তি ফিরে পান আধিকারিকরা। 

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই রাকেশের পেটে ব্যথা শুরু হয়। ওই যুবতী তাকে নার্সিংহোমে ভর্তি করে। প্রতিদিনই  যুবতী তাকে নার্সিংহোমে খাবার এনে দিত। ওই নার্সিংহোমেদের এক কর্মী বলেন,  যুবতীর সঙ্গে রাকেশের প্রণয়ের সম্পর্ক রয়েছে। এমনটা সে জানিয়েছিল। ওই যুবতী তার চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই যুবতীর টানেই রাকেশ মেমারিতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। সেখানে তার সঙ্গে পরিবারের আরও দু’জন সদস্য থাকত। তারা ধর্ম চর্চা করে বলেই স্থানীয়দের জানিয়েছিল। রাকেশ অনেককে আবার  কলেজ ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। আসানসোলের একটি কলেজের সে পড়াশোনা করে বলে কয়েকজন প্রতিবেশীকে জানায়। 
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওই বাড়িতে আর এক পাকচর মুকেশ রজক আসত। একটি এনজিওর মাধ্যমে তাদের দু’জনের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানী গুপ্তচরের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পাক গুপ্তচরও নিজেকে একটি এনজিওর কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করে। পরে টাকার বিনিময়ে  সে ভারতীয় মোবাইল নম্বর  এবং ওটিপি শেয়ার করার অফার দেয়। ঘরে বসে কোনও পরিশ্রম ছাড়া মোটা টাকা পাওয়ার অফার পাওয়াই, তারা সেটি লুফে নেয়। ছদ্মবেশী পাপ গুপ্তচরের পরামর্শ মতো তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফোন নম্বর এবং ওটিপি পাঠাতে থাকে। বেশ কিছুদিন ধরে এই কাজ করতে থাকার পরেই তারা গোয়েন্দাদের নজরে চলে আসে। শুরু হয় তাদের উপর নজরদারি। উপযুক্ত প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দাদের অনুমান, শুধু এই দু’জন নয়, এই চক্রে আরও অনেকেই যুক্ত রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে থেকে তারা এই কাজ করলেও কেউ টের পায় না। কিন্তু ওই যুবতী মেমারিতে পাকচরের সঙ্গে একই ঘরে বেশ কিছুদিন ছিল। তার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ওই চরের। তারপরও সে কোনও কিছু টের পেয়েছিল কি না, কিংবা সব যেন মুখ বুজে ছিল সেটা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ