সোমেন পাল গঙ্গারামপুর: রহস্যের কিনারা হয়নি। আপাতত থানার মালখানার সিন্দুকে বন্দি কালচে সবুজ রঙের ‘পাথর’।
সোমেন পাল গঙ্গারামপুর: রহস্যের কিনারা হয়নি। আপাতত থানার মালখানার সিন্দুকে বন্দি কালচে সবুজ রঙের ‘পাথর’।
অত্যন্ত যত্ন সহকারে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখার অন্যতম কারণ, রহস্যময় পাথর ঘিরে এলাকার মানুষের আগ্রহ। মহাজাগতিক বস্তুকে একবার দেখতে অনেকেই ভিড় করছেন হরিরামপুর থানায়। যে জমিতে পাথরটি উদ্ধার হয়েছিল, সেখানেও হাজির হচ্ছেন অনেকে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে অনবরত মহাবিশ্বের অপার রহস্য নিয়ে আলোচনা। আড্ডার আসরে কিছুটা পিছনে পড়ে গিয়েছে এসআইআর নিয়ে যাবতীয় আগ্রহ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বস্তুটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে দিনকয়েকের মধ্যেই আসছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (জিএসআই) টিম। পরীক্ষানিরীক্ষার পর প্রয়োজন মনে করলে গবেষণার জন্য তারা পাথরটি হরিরামপুর থানা থেকে নিয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সকালে হরিরামপুর থানার লঘুচর এলাকায় জমি থেকে উদ্ধার হয় ওই পাথরের টুকরো। প্রথম দিকে সেটি নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা ছিল না পুলিশের। যত সময় গড়িয়েছে তৈরি হয়েছে একাধিক সম্ভাবনা ও প্রশ্নচিহ্ন। যারপরেই নড়েচড়ে বসে হরিরামপুর থানা ও জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই জিএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আগামী সপ্তাহে জিএসআইয়ের একটি টিম জেলায় এসে পাথরের টুকরোটি পর্যবেক্ষণ করবে। যদি মনে হয় সেটি উল্কাপিণ্ডের অংশ, জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাবে দলটি। ছোট টুকরো হলেও সম্ভাব্য উল্কাপিণ্ডটির ওজন সাধারণ পাথরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
কালচে সবুজ এরকম পাথর গৌড়বঙ্গে পাওয়া যায় না বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাশাসক সুব্রহ্মনিয়াম টি বলেন, হরিরামপুর থানায় উদ্ধার হওয়া পাথর আসলে কী, আমাদের সকলের অজানা। জিএসআইকে চিঠি দিয়েছি। সামনের সপ্তাহে পাথরটি পরীক্ষা করতে টিম আসবে। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পাশাপাশি পাথরটি পরীক্ষা করবেন দলের সদস্যরা। তাঁদের মনে হলে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যেতে পারেন। নিজস্ব চিত্র