নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কয়েক সেকেন্ডের জন্য রাতের আকাশে দৃশ্যমান ‘আগুনের গোলা’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তীব্র গতিতে ওই গোলাটিকে ধেয়ে যেতে দেখা যায়। আর তারপরই প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে চারদিক। জলপাইগুড়ির পাশাপাশি কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ, শীতলকুচি কিংবা মাথাভাঙা থেকেও শোনা গিয়েছে মারাত্মক ওই শব্দ। কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি। জলপাইগুড়ির বেড়ুবাড়ি, কোচবিহারের হলদিবাড়িতে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় এতটাই জোরে ওই শব্দ শোনা গিয়েছে যে, ঘর ছেড়ে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। বস্তুটি কী? মিসাইল, মর্টার, রকেট প্রপেলার গ্রেনেড নাকি উল্কাপাত কিংবা স্পেস জাঙ্ক—ব্যাপক আলোড়ন ছড়ায়। কোথায় ওই আগুনের গোলাটি পড়ল, তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় খোঁজাখুজি। রহস্যময় আগুনের গোলাটি উল্কা নাকি অন্যকিছু, তা রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে জানা সম্ভব হয়নি। সেটি কোথায় পড়েছে, তাও জানাতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন।
তবে আকাশে ধেয়ে যাওয়া আগুনের গোলাটির ভিডিও কয়েক সেকেন্ডের জন্য মোবাইলে ক্যামেরা বন্দি করতে সক্ষম হন কেউ কেউ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও আপলোড হতেই মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। ছোটাছুটি শুরু করে দেন বিভিন্ন থানার পুলিশ কর্মীরা। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলিও এনিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছে তা নিয়ে খোঁজখবর করছি আমরা। তবে রাত পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। কোথাও কোনও ক্ষয়ক্ষতিরও খবর মেলেনি। তাঁর দাবি, যতদূর মনে হচ্ছে এটি উল্কা ঝরনা। একই দাবি করেন কোচবিহারের পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা। বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি উল্কাপাত বলেই মনে হচ্ছে। তবে এটি কোথায় পড়েছে, রাত পর্যন্ত জানতে পারিনি আমরা।
আগুনের গোলাটি ‘স্পেস জাঙ্ক’ হতে পারে বলে মনে করছেন জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত। তিনি বলেন, এদিন আকাশে যে আগুনের গোলাটি দেখা গিয়েছে, সেটি ‘স্পেস জাঙ্ক’ বলেই মনে হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অনেক মহাকাশ যান পাঠিয়ে থাকে। ওইসব মহাকাশ যানের কিছু উচ্ছিষ্ট অংশ ঘুরতে থাকে মহাকাশে। ঘুরতে ঘুরতে সেগুলি কখনও কখনও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে পৃথিবীর কক্ষপথে চলে আসে এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা মাত্রই ঘর্ষণের ফলে এগুলির গতিবেগ প্রচুর বেড়ে যায়। গতিবেগ দাঁড়ায় সেকেন্ডে প্রায় ৭০-৮০ কিমি, এবং মারাত্মক তাপ সৃষ্টি হয়। দেড় হাজার থেকে তিন হাজার ডিগ্রি পর্যন্ত তাপ তৈরি হয়ে থাকে। আকাশে দেখলে একেবারে আগুনের গোলার মতো মনে হয়। তবে উল্কাপিণ্ডও হতে পারে। নিজস্ব চিত্র